
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই অর্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করে অফিস ভবনে রং ও সীমিত সংস্কারকাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং বরাদ্দের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, এ বরাদ্দের অর্থ দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার কথা। প্রাচীর নির্মাণের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে ভবনের সংস্কারকাজ করা যাবে। সব কাজ শেষে অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলে তা ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পেছনের অংশ এখনো উন্মুক্ত। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। ফলে কার্যালয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবনে রংয়ের কাজ করা হলেও বড় ধরনের সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান আলামত পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারকাজে ১৮ লিটারের ১০টি রংয়ের ড্রাম, ৪ লিটারের ২০টি গ্যালন এবং ১ লিটারের কয়েকটি কৌটা ব্যবহার করা হয়েছে। বাজারদরের সর্বোচ্চ মূল্য হিসাব করলেও ব্যবহৃত রংয়ের মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকার মতো। বাকি অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, “পুরো সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ যথেষ্ট ছিল না। তাই জেলা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে অফিস ভবনে রং ও প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে। আমার বিবেচনায় এটিই তখন বেশি জরুরি ছিল।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার প্রথমে দাবি করেন, নীতিমালা অনুসারেই কাজ হয়েছে। পরে নীতিমালায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি বরাদ্দের অর্থ দিয়ে পুরো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্ভব নাও হয়, তাহলে নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী আংশিক প্রাচীর নির্মাণ অথবা অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে পুরো অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা কতটা বিধিসম্মত এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
Leave a Reply