
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের চিনোড়া মৌজায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একই সেচ স্কিমে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক দশক ধরে চলা বিরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জটিলতায় সময়মতো সেচ না পেয়ে ব্যাহত হচ্ছে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ। আসন্ন বোরো মৌসুমের আগে বিষয়টির দ্রুত তদন্ত ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে স্থানীয় কৃষক মো. অলিউল্লাহ চিনোড়া মৌজায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০১৯ সালে একই এলাকায় বিদ্যমান সেচ স্কিমের নির্ধারিত দূরত্বের বিধিমালা অনুসরণ না করে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় সাধন বর্মন তার নিজ বসতবাড়ির ভেতরে নলকূপটি স্থাপন করেন এবং সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মাঠে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এই বিরোধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। পর্যাপ্ত ও সময়মতো সেচ না পাওয়ায় প্রতিবছর অনেক জমি অনাবাদি থেকে যায়, আবার অনেক জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।
কৃষক রেজাউল করিম, আরিফুজ্জামানসহ একাধিক কৃষক জানান, সামনে ইরি-বোরো মৌসুম। এখনই সমস্যার সমাধান না হলে হাজারো কৃষক চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ সেচ প্রকল্প চিহ্নিত করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী মো. অলিউল্লাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা সেচ কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। বিরোধের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একপর্যায়ে নিজের সেচ কার্যক্রমও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “নিজের বসতবাড়ির ভেতরে গভীর নলকূপ স্থাপনের বিধান কোথায় আছে?” দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সাধন বর্মন দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। তবে নিজ বাড়ির ভেতরে নলকূপ স্থাপনের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে বিএমডিএ নিয়ামতপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. তারিক আজিজ বলেন, একই স্কিমে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তদন্তে বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ সেচযন্ত্র বহাল রেখে অবৈধটি বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, কোনো সেচযন্ত্র যদি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদন পেয়ে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply