
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজারের স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মুয়াজ্জিন মাহফুজের বিরুদ্ধে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সতর্কতায় চেক যাচাইয়ের সময় জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি ধরা পড়লে অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় ৬০ হাজার টাকার একটি চেক নগদায়নের জন্য যান উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ। চেকটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।
ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর আলম অন্যত্র বদলি হওয়ায় তাঁর স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ হয়। এ সময় মাহফুজ দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগেই জাহাঙ্গীর আলম চেকটিতে স্বাক্ষর করে রেখে গেছেন। তবে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকটি যাচাই করে।
যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরই ওই চেকের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ স্থগিত করা হয়। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক জালিয়াতি থেকে সরকারি অর্থ রক্ষা পায়।
রোববার ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এদিন অভিযুক্ত মুয়াজ্জিনকে কর্মস্থল মডেল মসজিদে দেখা যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
সোনালী ব্যাংক বদলগাছী শাখার ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, “চেকটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং যাচাইয়ের পর অর্থ পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে উপজেলা প্রশাসন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনাটি সত্য। প্রাথমিকভাবে জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষী মুয়াজ্জিন মাহফুজের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করা হয়নি।
Leave a Reply