
নিউজ ডেস্ক
চার হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তি, তবু কাটছে না রহস্য
পুলিশের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন, ঘটনাস্থলের গতিবিধি ও পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তাঁদের স্বীকারোক্তি ও পুলিশের দেওয়া ঘটনাক্রমের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে তাঁদের গতিবিধি, পোশাক এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তেই মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক। তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে তদন্তে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের বাড়িও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মাছুয়াপাড়ায়।
রোববার বিকেলে দুই যুবককে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর ভাষ্য, দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাঁদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
পুলিশের বক্তব্যে যে ঘটনাক্রম
পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কেনেন। পরে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তাঁরা ইয়াবা সেবন করেন। রাতের শেষ দিকে তাঁরা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।
সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে বেরিয়ে আসেন। এরপরই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডের দিকে গড়ায় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশের এই বর্ণনা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনে ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকা সত্ত্বেও দুই যুবক কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে তদন্তে পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসার পাশাপাশি নেতিবাচক দিকের সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তের ওপর আস্থা রাখার কথাও বলেন।
একই ধরনের শার্ট ঘিরে আলোচনা
এদিকে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে একই ধরনের শার্ট পরা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা গেছে, এমন দাবি করে বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
রংপুরের কয়েকটি স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন তোলা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, একই ধরনের শার্ট একাধিক ব্যক্তি পরতেই পারেন। শুধু পোশাকের মিলকে কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তদন্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়েও আলোচনা
চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার পাশাপাশি গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য দেখা গেছে।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টিকে নিছক কাকতালীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তদন্তে সম্পৃক্ত করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মূল বিষয় হচ্ছে তথ্য-প্রমাণ, আলামত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা।
স্বীকারোক্তির পরও যেসব প্রশ্ন
দুই যুবকের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনের পরিবর্তে নিহত পরিবারের বাড়ির ছাদে যাওয়ার কারণ, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাঁদের গতিবিধি, ঘটনাস্থলে অন্য কারও উপস্থিতি ছিল কি না এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত পোশাকের বিষয়টি এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তদন্তে পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
চার সদস্যের একটি পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তিই কি পুরো ঘটনার চিত্র তুলে ধরছে, নাকি তদন্তে আরও কোনো তথ্য সামনে আসবে এখন সেই উত্তরই খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
Finding a reliable online casino can feel like searching for a needle in a haystack but this platform makes everything so easy to navigate. I love how quickly my bonus credits show up and the game selection keeps me entertained for hours. Highly recommend giving their live dealer section a try. Visit the official site cl88win