
সবুজ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগতদের দিয়ে সরকারি কাজ করানো ও কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আমিরুদ্দীন বাবু ও মোস্তাকিম বিল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভূমি অফিসকেন্দ্রিক অনিয়ম ও দালালচক্রের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়।
সম্প্রতি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘প্রাইম টিভি’ এর অনলাইন পোর্টালে ‘পোরশায় কম্পিউটার দোকানদারের হাতে ভূমি অফিসের দায়িত্ব, দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে একজন কম্পিউটার দোকানদারকে অফিসে বসিয়ে রাখার অভিযোগ, সরকারি নথিপত্রে তার প্রবেশাধিকার এবং কথিত দালালদের প্রভাবের বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমিরুদ্দীন বাবু সাংবাদিক ও তাঁর এক সহকর্মীকে উদ্দেশ করে ফেসবুকে মানহানিকর ও আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদে উত্থাপিত বিষয়গুলোর জবাব তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে ভূমি অফিসকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গে মোস্তাকিম বিল্লাহর নামও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ঘটনার দিন আমিরুদ্দীন বাবুসহ কয়েকজনের ভূমি অফিসে উপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে নিতপুর-তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রাশেদুল ইসলাম জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতিতে অফিসের দায়িত্বে থাকা ঝাড়ুদার মফিজুল ইসলাম অন্য একজনকে অফিসে রেখে বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি তিনি পরে জানতে পারেন। তিনি ঘটনাটিকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র কোনোভাবেই বাইরের ব্যক্তির কাছে রাখা বা তাঁদের দিয়ে সরকারি কাজ করানো সমীচীন নয়।
এ ঘটনায় ভূমি অফিসে বহিরাগতদের প্রবেশ, সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা এবং কথিত দালালদের প্রভাবের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকদের মতে, কোনো সংবাদে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক নীতি। সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা গণমাধ্যমে তথ্য-প্রমাণসহ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সংশ্লিষ্টরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে ভূমি অফিসে বহিরাগতদের ভূমিকা, কথিত দালালদের যাতায়াত এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply