
মো: পাভেল রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগর থানায় এক মাসের বেশি সময় ধরে পুলিশের তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করা ছয়টি গরু এবার নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি গরু পুলিশ একটি চোরাই গরুর ঘটনায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছিল। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি গর্ভবতী ছিল। থানায় থাকা অবস্থাতেই সেটি সম্প্রতি একটি এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। ফলে পাঁচটি গরু থেকে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে।
আদালতের আদেশে আগামী ৩০ আগস্ট (রবিবার) বিকেল ৩টায় রাণীনগর থানা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে শর্তসাপেক্ষে এসব গরু নিলামে বিক্রি করা হবে।
গত ২৭ আগস্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১, নওগাঁর কার্যালয় থেকে জারি করা নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নিলাম বিক্রয় কমিটির সদস্য সচিব মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কয়েকটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন নওগাঁর আসলামকে শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাণীনগর থানা পুলিশ নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাবের সহযোগিতায় আসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুলাই ভোররাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানকার গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি গরু উদ্ধার করা হয় এবং অসিতকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো রাণীনগর থানায় রাখা হয়। পরে চুক্তিভিত্তিক একজন ব্যক্তির মাধ্যমে গরুগুলোর খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ‘উদ্ধারের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলো থানায় রাখা হয়েছে। একজন লোকের মাধ্যমে নিয়মিত এগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে সবগুলো গরুই সুস্থ আছে। একটি গরু থানায় থাকা অবস্থায় বাছুরের জন্ম দিয়েছে।’
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের আদেশে গরুগুলো নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাছুরসহ মোট ছয়টি গরু নিলামে তোলা হবে। আদালতের নির্ধারিত শর্ত মেনে যে কেউ নিলামে অংশ নিতে পারবেন।
থানা প্রাঙ্গণে গরু লালন-পালন এবং সেখানেই বাছুর জন্ম নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। এবার আদালতের আদেশে সেই গরুগুলো
Leave a Reply