
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে কতিপয় ব্যক্তিদের ষড়যন্ত্র আর বাঁধা উপেক্ষা করে চলছে গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নমূলক কাজ। একটি কুচক্রী মহলের কতিপয় ব্যক্তিরা সাংবাদিকের কাছে ভুল তথ্য সরবরাহ করে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের বিপক্ষে সংবাদ পরিবেশন করায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সরকারী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে অপরদিকে দেশজুড়ে উপজেলা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিচ্ছে এমনটিই মনে করছে সচেতন মহল।
সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা এলজিইডির আওতায় নওগাঁ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল বাজার থেকে কাশিমপুর রাজবাড়ি অভিমুখি গ্রামীণ দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ হচ্ছে। যে রাস্তুটির কিছু অংশ ইট বিছানো আবার কিছু অংশ মাটির ছিলো। ফলে বর্ষা মৌসুমে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষরা চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে চলাচল করতো। সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে ওই গ্রামীণ রাস্তার প্রাথমিক ভাবে দুই কিলোমিটার অংশের পাকাকরণ করা হচ্ছে। সেই রাস্তার জন্য ইটের খোয়া রাখার বিষয়ে সম্প্রতি বিভ্রান্তিমূলক একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যা সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: খলিল প্রামাণিক জানান, ওই রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ একটি রাস্তা। বহুবছর পর ওই রাস্তার কিছু অংশের পাকাকরণ কাজ শুরু করা হয়েছে। সেই রাস্তার জন্য ব্যবহৃত ইটের খোয়া রাস্তার আশেপাশে রাখার স্থান না পাওয়ার কারণে এনিমি সম্পত্তির পরিত্যক্ত কাশিমপুর কলেজ মাঠে সাময়িক সময়ের জন্য রাখা হয়েছে। ওই জায়গাতে বিগত বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে একটি কলেজ স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও পরবর্তিতে আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তখন থেকে ওই জায়গাটি ফাঁকা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে ওই জমির উপর সরকারের সঙ্গে কতিপয় ব্যক্তিদের মালিকানার বিষয় নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন যাবত জায়গাটি স্থানীয়রা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছে। মাঝে মধ্যে স্থানীয় ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলাও করে থাকে। এছাড়া জায়গাটি দিন দিন স্থানীয়দের অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। এর আগে ২০০৪ সালে নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই সড়কের উন্নয়নমূলক কাজ করার সময় দীর্ঘদিনের জন্য জায়গাটি ব্যবহৃত হয়েছিলো। বিভিন্ন সময় সরকারি নানা উন্নয়নমূলক কাজের জন্যও পরিত্যক্ত ওই জায়গাটি ব্যবহার করা হয়। সরকারের উন্নয়ন মূলক কাজে ওই জায়গাটি সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবহার করা হবে এতে কারো কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু জানান অনেক ঝামেলার পর জনগুরুত্বপূর্ণ ওই গ্রামীণ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ পেয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। ওই রাস্তা দিয়েই ওই এলাকাসহ আশেপাশের হাজার হাজার মানুষরাই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করবে। তাই কাজে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা করা উচিত। কিন্তু একটি কুচক্রী মহলের কতিপয় ব্যক্তিরা রাস্তার ইটের খোয়া সাময়িক ভাবে পরিত্যক্ত জায়গায় রাখা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে যা খুবই দু:খ্যজনক। ধানকাটা মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে শ্রমিক সংকট হওয়াই রাস্তার কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই ইটের খোয়াগুলো রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হবে কিন্তু যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য ওই ফাঁকা জায়গার সিংহ ভাগ স্থানে রাবিশ (আবর্জনা) জমা করে রেখেছে তাহলে তাতে কি ওই কতিপয় ব্যক্তিদের সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের সবারই উচিত এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সাময়িক সমস্যা মেনে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি না করে সার্বিক সহযোগিতা করার মাধ্যমে ভালো ভাবে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করা।
উপজেলা প্রকৌশলী মো: ইসমাইল হোসেন জানান রাস্তার আশেপাশে ইটের খোয়া রাখলে রাস্তা দিয়ে পথচারীদের চলাচল খুবই কষ্টকর হবে বলে ওই পরিত্যক্ত ফাঁকা স্থানে সাময়িক সময়ের জন্য খোয়া রাখা হয়েছে। এতে করে কারো সমস্যা না হওয়ারই কথা। আমরা দ্রুতই ওই খোয়াগুলো রাস্তার কাজে ব্যবহার করবো। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজের গুনগত মান বজায় রেখে রাস্তার কাজ শেষ করার আশা ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।
Leave a Reply