
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দু’তলায় অফিসের প্রধান সহকারী ও ক্যাশিয়ারের রুমের জানালার গ্রীল ভেঙে নগদ ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য মালামাল চুরি হয়েছে কি না তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) গভীর রাতে এ চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা বলছে এই হাসপাতালে প্রায়ই এই চুরির ঘটনা ঘটে। কখনো আবাসিক কোয়ার্টারে, কখনো হাসপাতালে আসা রোগীর টাকা-পয়সা, কখনও রোগীর স্বজনদের মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার কথা শোনা যায়। এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া টাকা-পয়সা ও মটরসাইকেল বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে সনাক্ত বা কোনও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। তবে নাইটগার্ড থাকার পরও যদি প্রতিনিয়ত চুরি হয় তাহলে এমন নাইটগার্ড না থাকায় ভালো।
নৈশ প্রহরী গোলাম রব্বানী ও বেলাল হোসেনের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে দেখাশুনা করেছি। দায়িত্বে কোনও অবহেলা ছিলো না। তাদের বিরুদ্ধে রাতে ডিউটি না করে তাস ও জুয়া খেলায় ব্যস্ত থাকার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।
চুরির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা জানান, আজ (বুধবার) অফিস খোলার পর জানতে পেরেছি চুরির ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে আউটডোর রুমের জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে চোর প্রবেশ করে প্রধান সহকারী ও ক্যাশিয়ার রুমের আলমারীর তালা ভেঙে দরজার লক কেটে আলমারীর তালা খুলে দুটি কক্ষ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরি করেছে। এছাড়া কাগজপত্র তছনছ করে। তাদের রুমে ল্যাপটপ ছিল কিন্তু সেটি নেয়নি চোরেরা। তবে জরুরি কোনও কাগজপত্র খোয়া গেছে কি না তা এখনো সনাক্ত করতে পারছিনা। দুইজন নাইটগার্ড থাকার পরও কেন চুরি হলো এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব তিনি দিতে পারনেনি। আপনার নৈশপ্রহরীরা রাতে ডিউটি না করে পিকনিক এবং জুয়া খেলায় ব্যস্ত থাকে জানেন কি না অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, দুই দিন আগে এমন অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি সাথে সাথে হাসপাতালে গেছি। তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
Leave a Reply