
নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের উত্তর-পশ্চিমের জেলা নওগাঁর বদলগাছীতে জেঁকে বসেছে শীত। গত দুই তিন দিনে শীতের তীব্রতা যেন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ।
এর মধ্যে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) শেষ বেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গত তিন থেকে এখন পর্যন্ত নেই সূর্যের দেখা।
বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আজ ঘন কুয়াশা এবং আকাশ মেঘলা থাকায় শীতের প্রকোপ বেশি। মেঘ এবং ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে চারপাশ। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। ঘন কুয়াশার কারণে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। এখনো দেখা মেলেনি সূর্যের।

বদলগাছীর দিনমজুর মিজানুর রহমান, জিল্লুর রহমান, নুরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, হামরা (আমরা) দিন আনি দিন খাই। কোনও সয়-সম্পদ (জমাজমি) নাই তাই একদিন বসে থাকলে হামাকে (আমাদের) চলবে না। শীতের জন্য ঘরত (ঘরে) বসে থাকলে বউ-ছোল (বিবি-বাচ্চা) ভাত পাবে না। এ বছর অনেক আগেই শীত নামিছে (নেমেছে)। গত মৌসুমে জানুয়ারি মাসে যে শীত নামিছিল (নেমেছিল) এবার মনে হচে (হচ্ছে) অনেক আগে থেকেই বেশি শীত। এই আগাম শীতে হাত-পাও (হাত-পা) থোবস লাগোচে (অবশ লাগছে), শীতে অনেক কষ্ট হচে (হচ্ছে) তারপরও বউ-ছলের (বিবি-বাচ্চার) কথা চিন্তা করে এই শীতের মধ্যেই কাজ করা লাগোচে (লাগছে)। এছাড়া কোনও উপায় নাই।
আগাম তীব্র শীতে যবুথবু অবস্থায় দিনাতিপাত করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিবারের ভরণ-পোষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে শীত জনিত কারণে শিশু ও বয়স্ক মানুষের সর্দি-কাশি, হাঁপানীসহ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে এলাকায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফারহানা বলেন, এই শীতের শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং বয়স্কদের এ্যাজমা বা হাঁপানীও বেড়ে যায়। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে রোগী বেশী ভর্তি হচ্ছে। আর এ সংক্রান্ত চিকিৎসাগুলোতে ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে বেশি।
বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুব আলম ‘গণ সংবাদ’কে বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা আজকে একটু বেশি। ঘন কুয়াশা এবং আকাশে হালকা মেঘ থাকার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না, যার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী ২ দিন তাপমাত্রা এরকমই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply