আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এই হামলার একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তা এখন অনেকটাই বাস্তব বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ওয়াশিংটনে এক বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব না যে এটা আসন্ন, তবে এটা খুব সম্ভব যে ঘটতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি খুবই সহজ—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।’
ট্রাম্প বারবার কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চাই। আমরা চুক্তির বেশ কাছাকাছি চলে এসেছি। তবে তেহরানকে এখনকার চেয়ে বেশি ছাড় দিতে হবে।’
তিনি আরও সরাসরি সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলকে—চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে যেন তারা হামলা না চালায়। ‘যতক্ষণ সম্ভাবনা আছে, আমি চাই না যে ইসরায়েল (হামলা করে) এই প্রক্রিয়া নষ্ট করুক,’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
কিন্তু ট্রাম্পের সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে শুক্রবার ভোররাতে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি।
এই হামলার কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চল থেকে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। আমরা অনেক আমেরিকানকে সতর্ক করেছি, কারণ যেকোনো সময় কিছু ঘটতে পারে।’
তার এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে, ওয়াশিংটন হয়তো সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত ছিল।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসন এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘ইরান একটি মহান দেশ হতে পারে। তবে তাদের আগে পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে।’
তবে ইসরায়েলের এই হামলার পর সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে চলছে জল্পনা, এই হামলা কি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘর্ষের দিকে ধাবিত করবে, নাকি এটি ছিল একটি নিয়ন্ত্রিত বার্তা?
Leave a Reply