
নিউজ ডেস্ক,
লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠককে ‘গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, এই বৈঠক একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে খুশি করার উদ্দেশ্যে হয়েছে এবং এতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।
শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে আলোচনা না করে বিএনপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার নামান্তর। এই বৈঠকে বিচার সংস্কার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন কিংবা জুলাই সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর কোনো উল্লেখ নেই।”
নাসির উদ্দীন আরও বলেন, “দেশের ভাগ্য দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। বিদেশে বসে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সরকার যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়, তাহলে দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থানের দিকেই এগোবে এনসিপি।”
এদিনের আরেক ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম আদিবও এই বৈঠকের তীব্র সমালোচনা করেন।
আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের ইস্যুতে সকল স্টেকহোল্ডার ও শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসতে হবে। একটি দল বা একক ব্যক্তির সঙ্গে বসে নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণ করা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”
সারোয়ার তুষার বলেন, “সংস্কারের ধরন এখনও নির্ধারিত হয়নি। এর আগেই প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে গণভোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ, আর সেটিই অন্যতম মৌলিক সংস্কারের বিষয়।”
সম্প্রতি লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে ঐক্যমতের প্রয়োজনীয়তার’ কথা তুলে ধরলেও রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply