
নিউজ ডেস্ক,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক লিখিত বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করেছেন, যা তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জামায়াতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠকের পর। ওই বৈঠকে যৌথ বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হয়, বিচার ও রাজনৈতিক সংস্কারে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হলে ২০২৬ সালের রমজানের আগেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে।
শনিবার (১৪ জুন) দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকের পর এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রধান উপদেষ্টা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিদেশে বৈঠক করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয়। এতে তার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি, দেশে ফিরে এসে সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করেই তার অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।”
বিবৃতিতে বলা হয়, ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে এমন একতরফা বৈঠক জনগণের মধ্যে আশংকা সৃষ্টি করেছে।
“দেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রশ্নে সন্দেহ তৈরি করেছে,” বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বিএনপির নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও ইউনূস-তারেক বৈঠকের প্রেক্ষাপট এবং বক্তব্যের মাধ্যমেই দলটির প্রতি ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়।
শুক্রবার লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান দেশের নির্বাচন ও রাজনীতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকের শেষে তারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ফেব্রুয়ারির দিকে এগিয়ে আনা হতে পারে, যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জিত হয়।
জামায়াতের এই প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান—এই দুইয়ের মাঝে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখতে জামায়াত এখন স্পষ্টতই কৌশল পরিবর্তন করছে।
Leave a Reply