
গ.স নিউজ ডেস্ক,
বাংলা লালনসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি ফরিদা পারভীন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। কিডনি জটিলতা ও ডায়াবেটিসের দীর্ঘস্থায়ী রোগী এই গুণী শিল্পীর জন্য দোয়া চাওয়া হচ্ছে সর্বত্র। তবে এ নিয়ে সম্প্রতি একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে-তিনি নাকি অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের নানা প্রান্ত থেকে সহানুভূতির ঢল নামে। কেউ সাহায্যের হাত বাড়াতে চায়, কেউ বা প্রশ্ন তোলে-এই মহান শিল্পীর পাশে কেউ নেই কেন?
তবে এই বিভ্রান্তিকর খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম জাফর নোমানি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা ভাই-বোনরা সবাই সুপ্রতিষ্ঠিত। আমাদের মা’র চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় আমরা নিজেরাই বহন করছি। এমনকি মা নিজেও যদি চাইতেন, তার নিজের সম্পদ দিয়েই চিকিৎসার ব্যয় চালানো সম্ভব ছিল।”
তার ভাষায়, “সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী যোগাযোগ করেছেন, সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু আম্মা সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি কারও সহযোগিতা নিতে চান না। আমরা নিজেরাই সব করছি, পাশে আছি সবসময়।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৯ সাল থেকেই আম্মার কিডনির সমস্যা রয়েছে। ডায়ালাইসিস শুরুর পর কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, তাই আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। দোয়া ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নেই। কিন্তু কেউ যেন ভুল খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি না তৈরি করেন।”
এছাড়া পরিবারের ঘনিষ্ঠরাও জানাচ্ছেন, ফরিদা পারভীনকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন তার সন্তান, পুত্রবধূ, কন্যা ও জামাতা—সবাই মিলে একটি ভালোবাসার বলয়ে তাকে আগলে রেখেছেন।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারিতেও আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন এই বরেণ্য শিল্পী। সে সময়ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
ফরিদা পারভীনের সুরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে। নজরুলসংগীত দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, দেশাত্মবোধক গান ও লালনসংগীতে নিজের আসন পোক্ত করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কারসহ বহু সম্মানে ভূষিত হন এই সঙ্গীত-সাধিকা।
আজ এই শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর সেরা উপায় একটাই-ভুল তথ্য না ছড়িয়ে, হৃদয় থেকে তার জন্য দোয়া করা।
Leave a Reply