
মোঃ আনোয়ার হোসেন,ডিমলা, নীলফামারী প্রতিনিধি:
বর্ষায় ভারী কিংবা অতিবৃষ্টি শুরু হলেই নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মানুষের আহাজারি আর পানিবাহিত যন্ত্রণার শেষ ঠিকানা খুজে পায় না। ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ মৌজা পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর,খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই, দোহলপাড়া, গয়াবাড়ী ইউপির ছোটখাতা,খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, বাইশপুকুর মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা নদী।
তিস্তাকে নিয়ে অনেক দুঃখ বেদনা ভরা গান গেয়ে চলছে সাধক গায়কেরা।
বর্ষা এলেই তিস্তা নদী বুভুক্ষ হয়। হয় নির্মম,মায়াহীন। ভেঙ্গে নিয়ে যায় মানুষের বসতবাড়ি গাছ বন,। তিস্তার নিঃষ্ঠুরতায় নিরাশ্রয় করে মানুষকে। বর্ষায় তিস্তার কূলকিনারা খুজে পাওয়া দু্ষ্কর।
পানিবন্দি মানুষ জানিয়েছে তারা খাদ্য সংগ্রহের কোন দিক নাই। পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। অপর দিকে শুষ্ক মৌসুম এলে স্রোতসীনি তিস্তা ক্লান্ত হয়ে নিঃস্তেজ হয়। শীত আসার পুর্ব মুহুর্তে তিস্তা নদী পানি শুন্য হয়। দুঃখ বেদনা ভুলে চরের জমিতে কৃষক বীজ বুনে এর ফলে শীতকালীন ফসলের অনাবিল সবুজ দিগন্ত হয়ে উঠে চর। কিন্তু টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তিস্তা
নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানি বন্দি হয়েছে অনেক পরিবার।
এলাকার বিভিন্ন দলের নেতারা লোক দেখানো প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করলেও অর্ধাহারে থাকা মানুষের জন্য কোন খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্হা করে নাই।
বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতি ও ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম, মাজেদুর রহমান বুলু,রবিউল ইসলাম শাহিন, মাসুদ ইসলাম জানিয়েছেন তারা সার্বক্ষণিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করছে এবং দুর্যোগ কবলিত নিজ নিজ এলাকার মানুষকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা প্রদান করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৫,২০৯টি পরিবারের তালিকা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জমা দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা ১০মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছে। যা অপ্রতুল।
সর্বশেষ আজ সকাল ১১টায় তিস্তার পানি বিপদ সীমার ১১সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
Leave a Reply