
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীরকে বালুতে পুঁতে অস্ত্রের মুখে চার কোটি টাকা আদায়ের ঘটনায় আলোচিত বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনি (৪০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গার রোজ গার্ডেন এলাকা থেকে যৌথবাহিনী তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁর সহযোগী, সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি কর্মী তুহিন শেখ (৩৫)–কেও আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর যৌথবাহিনী জনিকে নিয়ে তাঁর কনা ইকো পার্ক, গুড়হাটা এলাকার বাসভবন ও ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। পুলিশের দাবি, ওইসব স্থানে ‘নির্যাতনের বিশেষ চর্চার সেল’ থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, “ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীরকে নির্যাতন ও চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় আসাদুজ্জামান জনি ও তাঁর সহযোগী তুহিন শেখকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে জনির ইকো পার্ক ও কার্যালয় তল্লাশি চলছে।”
মামলা ও অভিযোগ
ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীরের স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন। এজাহারে আসাদুজ্জামান জনিকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় তাঁর বাবা মো. কামরুজ্জামান, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক (সাময়িক বহিষ্কৃত) মফিজ উদ্দীন দপ্তরীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সকালে শাহনেওয়াজ কবীরকে কৌশলে জনির কার্যালয়ে নিয়ে মারধর করা হয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রথমে দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে শাহনেওয়াজের স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে জনির প্রতিষ্ঠানের হিসাবে আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করেন।
এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় তাঁকে আবার আটক করা হয়। অভিযোগ আছে, তখন বুকসমান বালুতে পুঁতে রেখে আরও দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে শাহনেওয়াজ বাধ্য হয়ে পূবালী ব্যাংক ও সাউথ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে এক কোটি টাকা মফিজ উদ্দীনের হিসাবে স্থানান্তর করেন এবং আরও এক কোটি টাকার চেক ও কয়েকটি ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
পরিবারের পাল্টা দাবি
অভিযুক্ত জনির পরিবার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত মঙ্গলবার যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জনির বোন মানজারমিন ইলোরা বলেন, “আসমা খাতুনের অভিযোগ মিথ্যা। আসলে গম কেনাবেচার টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ থেকেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।”
তদন্ত চলমান
পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় ইতোমধ্যে আসাদুজ্জামানের বাবা কামরুজ্জামানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, মামলাটি শুধু অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নয়; বরং এতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও সাংবাদিক জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি জাতীয়ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
Leave a Reply