
নিজস্ব প্রতিবেদক,
খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুর খবরে ফেসবুকজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এই শোকের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আক্ষেপ-একজন সৎ ও নিবেদিত সাংবাদিক তার জীবনের শেষ প্রহরে ছিলেন চরম অভাব, অসহায়ত্ব ও অবহেলার শিকার।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে ভেসে উঠেছে ৭১ বছর বয়সী এই সাংবাদিকের মরদেহ। নিখোঁজের দুদিন পর এই খবরে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন সহকর্মীরা ও শুভানুধ্যায়ীরা।
ফেসবুকে অসংখ্য পোস্টে ফুটে উঠছে শোক, শ্রদ্ধা আর তীব্র ক্ষোভ। অনেকেই মনে করছেন, জীবনের শেষ সময়ে বিভুরঞ্জন সরকারের লিখিত খোলা চিঠিই যেন তার আত্মহত্যাপত্র। সেই চিঠিতে উঠে এসেছে তার আর্থিক অনটন, পারিবারিক সংকট এবং পেশাগত চাপের কথা। সেখানে লেখা ছিল-
দুঃখই হোক আমার জীবনের শেষ সঙ্গী। আর পৃথিবীর সব প্রাণী সুখী হোক।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার ফেসবুকে ওই লাইন উদ্ধৃত করে লিখেছেন, একজন সৎ সাংবাদিকের শেষ আকুতিই প্রমাণ করে, আমরা তাকে কতটা অবহেলা করেছি।
সিনিয়র সাংবাদিক জ ই মামুন লিখেছেন, “নিখোঁজের দুদিন পর প্রখ্যাত কলামিস্টের মরদেহ উদ্ধার হলো নদীতে। কী আক্ষেপ, কী অভিমান নিয়ে চলে গেলেন, তা তার শেষ লেখায় স্পষ্ট। আমাদের ক্ষমা করবেন বিভুদা।”
সাবেক সাংবাদিক শরিফুল হাসান আরও সরাসরি মন্তব্য করেন “বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কলামিস্টদের একজন এভাবে চলে গেলেন। অথচ তিনি রাষ্ট্র থেকে কোনো স্বীকৃতি বা সহায়তা পাননি।”
অসংখ্য সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলেছেন, যখন তিনি বেঁচে ছিলেন, তখন কি কেউ তার কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেছেন? হাসান মিসবাহর ভাষায়, “মৃত্যুর পর সমাজ কান্নায় ভেসে যায়, অথচ জীবিত অবস্থায় তার যন্ত্রণার পাশে দাঁড়ায় না কেউ।”
সফিউল আজম রাজন লিখেছেন, “সাংবাদিক কোটায় কতজন প্লট, তহবিল, সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। অথচ দু’বার আবেদন করেও বিভুরঞ্জন সরকার কিছুই পাননি। এমন একজন মেধাবী মানুষ কেবল অভাবে, অবহেলায়, রাষ্ট্রের অবজ্ঞায় বিদায় নিলেন। দায় কার?”
একজন সহকর্মী ব্যথিত কণ্ঠে লিখেছেন, “আজ শুধু বিভুদার লাশ নয়, এটি আসলে সৎ সাংবাদিকতার লাশ।”
বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু শুধুই একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়বদ্ধতার বড় প্রশ্ন। একজন সৎ সাংবাদিক যখন অভাব-অনটনে ভুগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন সেটি আসলে পুরো জাতির জন্য এক অমোচনীয় লজ্জা।
Leave a Reply