
নিজস্ব প্রতিবেদক,
জয়পুরহাটে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক শিক্ষককে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সম্প্রতি আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম স্বাধীনকে গ্রেপ্তারের পর এই প্রতারণা নতুন মাত্রা পায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন জানান, স্বাধীন গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফোন করে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভয় দেখানো হয়, টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা হবে এবং যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে। একইভাবে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের কাছেও ফোন যায়, ওসির নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
এমনকি শুধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও বাদ যাচ্ছেন না। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের কাছে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন আসে। তাঁকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তবে তিনি কোনো অর্থ না দিয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে থেমে যান।
পুলিশ বলছে, এগুলো নিছক প্রতারণা। জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল কাদের বলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা চাইতে পারে, কিন্তু আমি বা পুলিশ কখনোই এমন কিছু করিনি। এগুলো সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে প্রতারক চক্রের সন্ধানে মাঠে নেমেছে। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমন প্রতারণা অব্যাহত থাকলে শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে।
Leave a Reply