
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছীতে এক গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে তৈরী হয়েছে ধুম্রজাল। গৃহবধু ঝর্না (২২) কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আকাশের (২৮) বিরুদ্ধে। গৃহবধুর বাবার পরিবারের দাবী তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বলছে আত্মহত্যা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের জগদিশপুর গ্রামে। অভিযুক্ত আকাশ ওই গ্রামের রাশেদুলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে “তরকারির স্বাদ ভালো হয়নি” এমন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী আকাশ তার স্ত্রী ঝর্নাকে নির্মমভাবে মারধর করেন। এতে ঝর্না গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে স্বামী আকাশ ও অন্য সদস্যরা হাসপাতাল থেকেই পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ঝর্নার বাবার বাড়ির লোকজন অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই আকাশ তার মা পেয়ারা বেগমের উস্কানীতে নানা অজুহাতে ঝর্নার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকাশের মা পেয়ারা বেগম ঝর্নাকে দেখতে পারতো না। সামান্য বিষয় নিয়ে প্রায় দিনই আকাশ তার মায়ের উস্কানীতে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকতো এবং স্ত্রীকে মারধর করতো। এর ধারাবাহিকতায় গত রাতেও ঝর্নাকে মারধর করে বাড়িতে আটকে রাখে। খুব সকালে আমাদের বাড়িতে যেতে চাইলে আবারও মারধর করলে এক পর্যায়ে ঝর্না জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মারা গেছে ভেবে তারা ঝর্নাকে গলায় ফাঁস দিয়ে টাঙ্গিয়ে দেয়। তাদের ৪ বছর বয়সের জমজ দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমরা আকাশ ও তার মা পিয়ারা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝর্নার মামা জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-২০, তারিখ: ২৭.৮.২৫। আসামীরা হলো স্বামী আকাশ হোসেন, শাশুড়ি পিয়ারা বেগম ও চাচাতো ননদ আশামুনি।
বদলগাছী থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। সকালে বাবার বাড়িতে যেতে দিতে না চাইলে আবারও ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ঝর্না। লাশ জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আসামীদের মধ্যে শাশুড়ি পিয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
এদিকে গ্রামে এমন নৃশংস ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
Leave a Reply