
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে দাপুটে জয়ের পথে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। ভিপি পদে সাদিক কায়েম ও জিএস পদে এসএম ফরহাদ এবং এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় তারা দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে ভোট পেয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮টি হলের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল। রাত থেকে ধাপে ধাপে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়, যা শেষ হয় বুধবার ভোর পর্যন্ত।
ভিপি পদে সাদিকের নিরঙ্কুশ এগিয়ে থাকা ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে সাদিক কায়েম ১২ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ২২১ ভোট। অন্যদিকে উমামা ফাতেমা ও শামীম হোসেন দুই হাজারের ঘরে ভোট পেলেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়েন।
জিএস পদে এসএম ফরহাদ প্রতিটি হলেই উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন। একাধিক হলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন। মেঘমল্লার বসু, তানভীর বারী হামীম ও আবু বাকের মজুমদার কিছু হলে ভালো ফল করলেও সামগ্রিকভাবে ফরহাদকে পেছনে ফেলতে পারেননি।
এজিএস পদে মহিউদ্দিন খানও একাধিক হলে দাপট দেখান। রোকেয়া হল, জহুরুল হক হল ও মুহসীন হলে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পান। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
কার্জন হল, অমর একুশে হল, সুফিয়া কামাল হল, শহীদুল্লাহ হল, শামসুন নাহার হলসহ অধিকাংশ হলে সাদিক-ফরহাদ-মহিউদ্দিন প্যানেলই আধিপত্য বিস্তার করে। জগন্নাথ হলে যদিও ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম এগিয়ে ছিলেন, তবে সামগ্রিক চিত্রে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি।
দীর্ঘ ছয় বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উৎসবমুখর। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা ভোটে প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে বিরল ঘটনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বিজয় ডাকসুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
Leave a Reply