
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুমপুর নতুনপাড়া একটি সাধারণ দুপুর হঠাৎই পরিণত হলো আলোচনার কেন্দ্রে। স্থানীয়রা স্তব্ধ হয়ে দেখলেন, এলাকার পরিচিত মুখ সালেয়া বেগমের ছোট্ট বারান্দা থেকে বেরিয়ে এলো দুই বস্তা ভর্তি টাকা!
প্রায় ৬৫ বছর বয়সী মোছা. সালেয়া বেগম দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিক্ষা করে জীবন কাটিয়েছেন। দিন গুজরানের সামান্য কয়েনগুলোই ছিল তার ভরসা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, চিকিৎসার জন্য কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি কখনো সেই টাকায় হাত দেননি।
সালেয়ার একমাত্র মেয়ে শাপলা খাতুন জানান, “মা আমাদের সঙ্গে থাকতেন না। একাই ছিলেন। আজ তার বারান্দা থেকে এই টাকা পাওয়া গেছে। এখন আমরা চাই, এই টাকায় তার চিকিৎসা হোক।”
স্থানীয়দের ভাষায়, সালেয়া ছিলেন নীরব, অল্পভাষী এক নারী। জুট মিলে বারান্দার নিচেই ছিল তার বসবাস। অসুস্থ হলেও কারও কাছে কিছু চাইতেন না, নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রাখতেন।
তার জামাই, রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “মা অসুস্থ ছিলেন। আমি চিকিৎসার কথা বললেও তিনি রাজি হতেন না। আজ বুঝলাম কেন তিনি এতদিন গোপনে জমিয়েছিলেন দুই বস্তা টাকা!”
দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় টাকা গোনার কাজ; সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেই কাজ চলতে থাকে। অবশেষে গণনা শেষে ২লক্ষ ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
স্থানীয় যুবক মো. শুভ বলেন, “রিকশায় করে যখন দেখি দুই বস্তা টাকা আনা হচ্ছে, বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করে যে এত টাকা জমাতে পারে, সেটা আমরা ভাবিনি।”
সাবেক কাউন্সিলর মো. শিপু জানান, “সালেয়া প্রায় ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করে টাকা গুছিয়েছে। এখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই টাকা তার চিকিৎসার জন্য ব্যয় হবে।”
অর্থের পাহাড় জমলেও সালেয়ার জীবনজুড়ে ছিল অভাব আর একাকীত্ব। যে হাত ভিক্ষা চেয়ে টাকাগুলো তুলেছিল, সেই হাতই এখন অসুস্থ শরীরের পাশে পড়ে আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ যেন এক নিঃশব্দ সংগ্রামের প্রতীক, যেখানে বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিল প্রবল, কিন্তু নিজের জন্য খরচ করার সাহস ছিল না।
Leave a Reply