
নিজস্ব প্রতিবেদক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো, বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানিক দল রবিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। সোমবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভাংনা এলাকা থেকে মাহিরকে এবং পরে পল্টনের চামেলীবাগ থেকে আয়লানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রবিবার রাতেই বর্ষাকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন,
“ত্রিভুজ প্রেমের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত নয়। নিহত জোবায়েদ ও অভিযুক্ত বর্ষার মধ্যে শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্ক থেকে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কিন্তু বর্ষার আগেও প্রেমিক ছিল মাহির। মেয়েটি মাহিরকে জানায়-‘জোবায়েদ না সরলে আমি তোমার হতে পারব না।’ এরপরই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় জোবায়েদকে।”
গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলার সিঁড়িঘরে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল মাহির ও তার বন্ধু আয়লান। জোবায়েদ বাসার নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মাহির ব্যাগ থেকে সুইচ গিয়ার চাকু বের করে গলায় আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান জোবায়েদ।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় জোবায়েদ রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়িতে ছটফট করছিলেন। এ সময় তিনি প্রেমিকা বর্ষাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাকে বাঁচাও।’ কিন্তু বর্ষা জবাবে বলেন, ‘তুমি না সরলে আমি মাহিরের হতে পারবো না।’
সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, বর্ষা স্বীকার করেছে হত্যার সময় সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং সিঁড়ি থেকে পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে আমরা পেয়েছি, জোবায়েদ দোতলার সিঁড়িতে ছুরিকাঘাতের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উপরের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন। দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।’
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনার অনেকটা মিল রয়েছে। এখানেও প্রেমিক ও প্রেমিকার পুরোনো সম্পর্ক এবং নতুন সম্পর্কে জড়ানো থেকে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা নিয়মিত মাহিরকে জানাতো জোবায়েদ কখন টিউশনি করাতে আসে। হত্যার আগে মাহির ও আয়লান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বউবাজার এলাকা থেকে ৫০০ টাকায় সুইচ গিয়ার চাকুটি কেনে।
নিহত জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে জবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
Leave a Reply