
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভালোবাসা যে মৃত্যুকেও হার মানায়-তারই এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ দেখা গেল নওগাঁর বদলগাছীতে। স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র ১১ ঘণ্টা পর প্রাণ হারালেন স্বামীও। দাম্পত্য জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত একসঙ্গে থাকা এই দম্পতি এবারও একসঙ্গে পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাদিবাড়ী (মৃধাপাড়া) গ্রামে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে তাঁদেরকে একসঙ্গে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।
একই দিনে মারা গেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জলিলুর রহমান (৭২) ও তাঁর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (৬৫)। শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আঞ্জুয়ারা বেগম। এর ১১ ঘণ্টা পর রাত ১২টা ২৫ মিনিটে নওগাঁ সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন জলিলুর রহমান।
৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁরা সুখে-দুঃখে ছিলেন পাশাপাশি। দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁদের চোখে আজ নিভে গেছে জীবনের সবচেয়ে বড় আলো।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন জলিলুর রহমান। স্ত্রীর হঠাৎ মৃত্যুতে তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান। স্ত্রীর মরদেহের পাশে বসে বারবার বলছিলেন, “ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না।” এরপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনিও আর নেই।
তাঁদের ছোট ছেলে রাকিবুল হাসান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “মা চলে যাওয়ার পর বাবা যেন ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছিলেন। মনে হচ্ছিল, তিনিও চলে যাবেন। সত্যিই চলে গেলেন। একসঙ্গে চলে গেলেন দুজনই, আমরা এখন একেবারে নিঃস্ব।”
দম্পতির জীবিত অবস্থায় তোলা একটি ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যেখানে দেখা যায়, দুজন বসে লুডু খেলছেন হাসিমুখে। ছবিটি দেখে অনেকেই লিখেছেন, “এ যেন জীবনের শেষ খেলা, যার পুরস্কার একসঙ্গে চিরশান্তিতে ঘুম।”
বদলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবুল কাশেম (মন্টু) মৃধা বলেন, “তাঁরা ছিলেন গ্রামের সবচেয়ে প্রিয় দম্পতি। একে অপর ছাড়া চলতে পারতেন না। তাই হয়তো একজন চলে যেতেই আরেকজনেরও মন টিকল না।”

পুরো এলাকায় এখন গভীর শোকের ছায়া। একসঙ্গে জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন শতাধিক মানুষ। সবাই বলছিলেন একই কথা “ভালোবাসার এমন পরিণতি হয়তো কাঁদায়, কিন্তু শেখায়ও সত্যিকারের ভালোবাসা মৃত্যুর পরও অমলিন।” তার জ্বলন্ত নজির “জলিল-আনজুয়ারা” দম্পতি।
Leave a Reply