
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তৃতীয় শ্রেণির এক কেরানি থেকে দেশের অন্যতম ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের কর্মজীবনের গল্প এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে তিনি পলাতক। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি পদে থেকে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়েছিলেন, গড়ে তুলেছিলেন হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সেখানেই শেষ করে তিনি গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করেন। তরুণ বয়সে তিনি স্থানীয় এক দৈনিক পত্রিকায় সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেন।
পেশাজীবন শুরু তার বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে। পরে ‘অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া’ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সহায়তায় তিনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৭তম বিসিএস ব্যাচে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর হাবিবুর রহমান দ্রুতই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। পুলিশে তার পদোন্নতি ও প্রভাব বিস্তারে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শেখ পরিবারের সদস্যদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বড় কারণ বলে সূত্র জানিয়েছে।
তিনি সরকারের শীর্ষ মহলের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগ-বদলিসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে থাকেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ২০১৩ সালের সহিংস আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও কঠোর।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশের মধ্যে দলীয়করণে ভূমিকা রাখেন, পাশাপাশি দুর্নীতি, পোস্টিংবাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জনরোষের মুখে পড়েন হাবিবুর রহমান। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে পলাতক আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা স্পষ্ট নয়।পলাতক থাকায় অভিযোগগুলো সম্পর্কে হাবিবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply