
নওগাঁর বদলগাছী মহিলা কলেজে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, এটি দেশের শিক্ষা-ব্যবস্থার গভীর সংকট, নৈতিক অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার নগ্ন উদাহরণ।
একটি কলেজে অধ্যক্ষের চেয়ার ঘিরে প্রকাশ্যে হাতাহাতি, পালাক্রমে চেয়ার দখলের প্রতিযোগিতা এবং নিজেকে কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করার লজ্জাজনক প্রতিযোগিতা—এসব কেবল সংবাদপত্রের শিরোনাম তৈরির খোরাক নয়, এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলেজটির অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেখানে একজন শিক্ষকের ভূমিকা হওয়া উচিত নেতৃত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার উদাহরণ স্থাপন, সেখানে তারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে এমন বিতণ্ডায় লিপ্ত—যা শিক্ষকতা পেশার মর্যাদাকেই চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও আইনি জটিলতা নিশ্চয়ই বাস্তবতা; কিন্তু তার সমাধান কখনোই কক্ষদখল বা চেয়ারে জোর করে বসার মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। আদালতের রায় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তই যেখানে চূড়ান্ত, সেখানে আদালতের চূড়ান্ত আদেশের আগেই নেতৃত্বের লড়াইতে অবাধ্য ও বিশৃঙ্খল আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশ্ন আসে—এই দ্বন্দ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কে? উত্তর সহজ—শিক্ষার্থীরা। যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটাচ্ছে অস্থিরতা, নেতৃত্বহীনতা এবং দ্বন্দ্বের মধ্যে। একজন অধ্যক্ষের প্রধান দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। অথচ বদলগাছী মহিলা কলেজে বর্তমানে দুইজন অধ্যক্ষ, দুইটি এডহক কমিটি এবং দুই রকমের যুক্তি চলছে সমান্তরালে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধীর সিদ্ধান্ত, এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। এটি শুধু বদলগাছীর একক ঘটনা নয়, বরং দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনের সংকটের প্রতিফলন।
আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—অবিলম্বে দ্বন্দ্ব থেকে সরে এসে আদালতের নির্দেশনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন মেনে চলুন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া জরুরি।
চেয়ার নয়, নেতৃত্বের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই হোক আমাদের অগ্রাধিকার।
(শহীদুল ইসলাম)
Leave a Reply