
নিজস্ব প্রতিবেক,
নওগাঁর বদলগাছীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সকাল ১১ টায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত মনোনিত এমপি প্রার্থী আলহাজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইয়াসিন আলী। এতে বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাসুদেব চন্দ্র, বিভাস চন্দ্র অধিকারী পল্টু, বিকাশ চন্দ্র সাহা, সাবেক পিডিবির সদস্য (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) ও নওগাঁ–৩ আসনের নির্বাচন মনিটর মো. রুহুল আমিন, নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক উত্তম কুমার চক্রবর্ত্তী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার মুস্তফি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জিতেন্দ্রনাথ (জিতু) মন্ডল, বিশিষ্ট ঠিকাদার তপন কুমার মন্ডল, স্বপন কুমার মন্ডলসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বক্তারা বলেন, “আমরা অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে নানা ভাবে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। আমাদেরকে কেবল নির্বাচনের আগে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে অনেক রাজনৈতিক দল আমাদের কথা ভুলে যান। আমরা বাঙালি, আমাদের জন্ম বাংলাদেশে। আমরা কেন বারবার সংখ্যালঘু হিসেবে নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হবো? আমরা স্বাধীনভাবে, মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে চাই। আমাদের সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের দেশ। এখানে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাই এই দেশের সমান নাগরিক। ইসলাম কখনোই অন্যায়ের পক্ষে কথা বলে না। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রভেদে বৈষম্য ইসলাম সমর্থন করে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবো। মন্দির, মসজিদ, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভূমি দখল, হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাওলানা মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবে, কেউ তার পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না। রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য নয়।”
তিনি উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply