
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আওয়ামী লীগ অতীতের ভুল স্বীকার না করলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সত্য ও পুনর্মিলনের যেকোনো উদ্যোগের পূর্বশর্ত হলো অপরাধ স্বীকার ও অনুশোচনা প্রকাশ, যা এখন পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত দলটির পক্ষ থেকে দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বাংলাদেশে সেই মডেল প্রয়োগের পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তাঁর ভাষায়, “কোথা থেকে শুরু করব? ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ স্বীকার করে যে সে ভুল করেছে এবং তার জন্য অনুতপ্ত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের হত্যার বিষয়ে আওয়ামী লীগ এখনো দায় অস্বীকার করছে এবং ঘটনাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা বাস্তবতার পরিপন্থি।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে
সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে।
“নির্বাচন একদিন আগেও হবে না, একদিন পরেও নয়,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ভুয়া খবর গণতন্ত্রের বড় হুমকি:
বৈঠকে আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান হুমকি। এই বিপদ মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, জনগণ ক্রমেই সচেতন হয়ে উঠছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।
জুলাই সনদ ও গণভোট:
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের সুযোগ বন্ধ করবে।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, তরুণ আন্দোলনকারীদের ভূমিকা, রোহিঙ্গা সংকট এবং ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply