
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,
ইরানে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যার ফলে দেশটির সেনাপ্রধানসহ অন্তত ২০ জন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

তেহরান, নাতাঞ্জ ও তাবরিজসহ আটটি শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তেহরানের আবাসিক এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানীতে নিহত হয়েছেন ৭৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৩২৯ জন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পরমাণুবিজ্ঞানী রয়েছেন।
ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি ও সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হয়েছেন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন আইআরজিসির বিমানবাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহও। ইসরায়েল দাবি করেছে, হাজিজাদেহসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারে বৈঠক করছিলেন, যা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফিন দেফরিন জানান, অভিযানে প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এই অভিযানকে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা রুখতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
হামলার জবাবে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট নিক্ষেপ করে ইরান। তেল আবিবে একটি বহুতল ভবনে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।
ইরান দাবি করেছে, পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এ সংঘাত ঘিরে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় পরিসরে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে।
Leave a Reply