
জিহাদ হক্কানী, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
উত্তরের দুটো জেলার মাঝে দৃঢ় সংযোগ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্মিত হরিপুর-চিলমারী তিস্তা গার্ডার সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। সৌদি অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা ব্যয়বহুল এই সেতু গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। পরিদর্শনে ছিলেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া, যুগ্ম সচিব সামছুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মালেক, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সচিব পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে জানান, মূল অবকাঠামো প্রায় ৯৯% সম্পন্ন। বাকি আছে একটি আর্জ ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক পাকাকরণ। আশা করা হচ্ছে, এই মাসের শেষ সপ্তাহেই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৯০ মিটার। নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (CSCEC)। এতে রয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩১টি স্প্যান, এবং দু’পাশে ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। স্থায়ী নদী শাসনের আওতায় কাজ হয়েছে ৩.৫ কিলোমিটার এলাকায়, অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৩৩ একর জমি।
২০১২ সালে সেতুর দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলন-সংগ্রামের পর সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে উদ্বোধন হলেও প্রকৃত নির্মাণ কাজ গতি পায় ২০২১ সালের দিকে। মূলত ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কারিগরি কারণে উদ্বোধন পিছিয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গড়িয়েছে।
এই সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে শুধু দুটি জেলা নয়, উত্তরাঞ্চল ঢাকার আরও কাছে চলে আসবে—প্রায় ১০০ কিমি কমবে দূরত্ব। কৃষি, ব্যবসা, পর্যটন এবং যোগাযোগে আসবে নতুন গতি।
Leave a Reply