
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।
২২ ডিসেম্বর (রোববার) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম আবদুল হাই ওরফে কানু (৭৮)। তিনি উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আবদুল হাই কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও একই সংগঠনের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক সহসভাপতি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় জামায়াত সমর্থক প্রবাসী আবুল হাসেমের নেতৃত্বে অহিদ, রাসেল, পলাশসহ ১০ থেকে ১২ ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর গলায় জুতার মালা দিয়ে এলাকা এমনকি কুমিল্লায় থাকতে পারবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন। এ সময় তিনি জুতার মালা সরিয়ে এলাকায় আর আসবেন না বলেও জানান। এ সময় তার ভিডিও ধারণ ও ছবি নেওয়া হয়। ওই ব্যক্তিরা বলতে থাকেন ‘এক গ্রাম লোকের সামনে মাফ চাইতে পারবেন কিনা? অন্যরা বলতে থাকেন তিনি কুমিল্লা আউট, এলাকা আউট, ছেড়ে দাও।’
তাঁর পরিবারের অভিযোগ, লাঞ্ছিতকারীরা সবাই স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মী। আবদুল হাইকে এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘হামলাকারীরা সকলেই স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের চিহ্নিত নেতা–কর্মী। তাঁরা ২০ জনের বেশি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন হলেন কুলিয়ারা গ্রামের আবুল হাশেম, অহিদুর রহমান, পেয়ার আহমেদ, রাসেল, শহীদ, এমরান হোসেন, ফরহান হোসেন, কামরান হোসেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করা হলো, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কার কাছে বিচার চাইব?’
গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার পর থেকে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসিকে অন্তত পাঁচবার কল করেছি। একবার তিনি কল ধরেছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেননি। এরপর আবারও কল করলে তিনি ধরেননি। যে ওসি কলই ধরেন না, সেখানে আমরা কার কাছে আইনগত সহায়তা চাইব।’
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি এটি এম আক্তারুজ্জামান বলেন, রবিবার রাতে বিষয়টি তাকে নিজেই জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কানু। এ ব্যাপারে তাকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার কথা বলা হয়েছে।
Leave a Reply