
নিজস্ব প্রতিবেদক,
পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জিহাদ (১১) নামে এক কিশোরকে ‘হত্যা’র অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
অব্যাহতি পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক বদিয়ার রহমানের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার মূল অভিযোগে গুরুতর তথ্যগত ভুল রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘নিহত’ দাবি করা জিহাদ আসলে জীবিত। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সে জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিল। পরে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
এ ছাড়া মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল কেরানীগঞ্জ নয়; প্রকৃত ঘটনা ঘটেছে সাভার এলাকায় এবং সংশ্লিষ্ট স্থান ঢাকার হাজারীবাগ থানার আওতাধীন। ফলে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ দেখিয়ে মামলা দায়ের করা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়।
আদালত বলেন, এজাহার, চার্জশিট ও জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা গেছে-এটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত। সে নিজেই আদালতে বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ অবস্থায় মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
মামলার বাদী মো. জহিরুল ইসলাম রাজু অভিযোগ করেছিলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় কেরানীগঞ্জের ওয়াশপুর বছিলা ব্রিজের নিচে আসামিদের নির্দেশে তার ছেলে জিহাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ওই সময়ে অনেক স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা মামলা করেছে, পুলিশ তদন্ত করে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করছে।
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করতে সাহস না পায়।
মামলার এক আসামির আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম দাবি করেন, তার মক্কেল দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন, অথচ মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বদিয়ার রহমান বলেন, মামলায় দুটি বড় ভুল ছিল-জীবিতকে মৃত দেখানো এবং অন্য এলাকার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে দেখানো। এ কারণে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকৃত ঘটনায় জিহাদ আহত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন করে মামলা করা হয়েছে।
মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না-এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Leave a Reply