
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক বাবার বিরুদ্ধে নিজ মেয়েকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে মা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, কিশোরী প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বিষয়টি জানাজানি হলে গত সাত দিন আগে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কিশোরীকে তার নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানালে পরিবারটি গড়িমসি শুরু করে। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্তের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝোলানো ছিল এবং কিশোরীর নানাবাড়িতে গিয়েও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, এমন জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের সাহস না পায়।
Leave a Reply