
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে উঠতেই তুমুল প্রতিবাদ দেখা দেয়।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য শুরু হওয়ার আগেই অনেক দেশের প্রতিনিধি আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান। ফলে অধিবেশন কক্ষের সামনের সারির বেশির ভাগ আসন ফাঁকা হয়ে যায়।
প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটের সময় অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত অনেককে হাততালি ও শিস দিতে শোনা যায়। পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

নেতানিয়াহু বক্তব্যে গাজায় চলমান যুদ্ধ, হামাস, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল জাতিগত নিধনে জড়িত নয়। তবে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নিধন হিসেবে দেখা যায়। এ অভিযোগকে “মিথ্যা” আখ্যা দেন নেতানিয়াহু।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার তুলনা করা যায়। তাঁর ভাষায়, “৭ অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র দেওয়া মানে ৯/১১ এর পর আল কায়েদাকে রাষ্ট্র দেওয়ার সমান।”
অধিবেশনের বাইরে, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে দিনভর হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগানে মুখরিত ছিলেন। তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড যেখানে লেখা ছিল, “নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করো”, “গাজাকে অনাহারে রাখা বন্ধ করো”, “ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করো” ইত্যাদি।
বিক্ষোভকারীরা জানতে পারেন, জাতিসংঘ কক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্য বর্জন করেছেন বহু প্রতিনিধি। খবরটি শুনেই তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন। পরে প্রায় দুই হাজার মানুষ জাতিসংঘ ভবনের দিকে মিছিল করে যান।
একই সময়ে ইসরায়েলি ও ইহুদি প্রবাসীরাও ম্যানহাটনে বিক্ষোভ করেন। তারা জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির দাবি জানান।
ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। এ কারণে নিউইয়র্ক যাত্রায় তাঁর বিমানের ফ্রান্সের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আইসিসির সদস্য নয়, সেখানে তাঁর গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নেই।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ১০টি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৫৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, “এটি মারাত্মক ভুল। এতে ইহুদিদের ওপর হামলা আরও বাড়বে।”
নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে জাতিসংঘ কক্ষের ভেতরে ওয়াকআউট আর বাইরে বিক্ষোভ প্রমাণ করে, গাজা সংকট এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। একদিকে ইসরায়েলের সাফাই, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের ক্ষোভ এই দ্বন্দ্বই ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply