
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
ডিমলায় ভূমি জরিপের প্রতিবাদে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সমাবেশে বক্তারা ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের পূন:জরিপ না করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানান।
জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের বিগত ১৯৮২ সালে জরিপ করা হয়। উক্ত জরিপ ২০০৪ সালে গেজেটভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ রেকর্ড নাম করন করা হয় ডি য়ার আর। এ রেকর্ড মূলে জমি ক্রয় বিক্রয় সহ সকল প্রকার হস্তান্তর নিয়ম চলে আসছে।
জানা যায়, তৎকালীন সময়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ কাজে নিয়োজিত সার্ভেয়ার ও আমিনদের সার্বিক সহযোগিতা না করায় ও মালিকানার কাগজপত্র প্রদর্শন না করায় ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝুনাগাছ চাপানি মৌজাটি প্রকৃত মালিকানার কাগজপত্রের অভাবে ১ নং খতিয়ান ভুক্ত করে বাংলাদেশ সরকার নামে অধিকাংশ জমি রেকর্ড ভুক্ত করা হয়। গত ৪৩ বছর যাবত উক্ত মৌজার ভূমি উন্নয়ন কর আদায় সহ সরকারি যাবতীয় কর আদায় বন্ধ হয়ে যায় এবং ভূমির মালিকরা মালিকানা হারানোর কারণে ক্রয় বিক্রয় সহ সকল প্রকার হস্তান্তর বন্ধ হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে কত ৪৩ বছর পরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইকরামুল হক চৌধুরী পুনরায় জরিপ করার জন্য আবেদন করলে বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট গণশুনানীর জন্য তারিখ ধার্য করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর সোনাখুলী আশ্রয়ন প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন ইউপি সদস্য, নুরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক,মোঃ রুহুল আমিন প্রমূখ। সভাপতিত্ব করেন, মোহাম্মদ মনসের আলী।
বক্তারা জানান, এককভাবে একটি মৌজায় রেকর্ড ও জরিপ আইনের পরিপন্থী হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী তিস্তা নদী অধ্যুষিত আরো ৩ টি মৌজা ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি ও দক্ষিণ সোনাখালি মৌজা মিলে ৪টি মৌজার পুনরায় জরিপ করার জন্য আবেদন করেন। বক্তারা বলেন, বিগত ৪৩ বছরে উল্লেখিত ৩টি মৌজার জমি জমা ক্রয় বিক্রয় সহ জমির যাবতীয় হস্তান্তরের কাজ চলে আসছে। এছাড়া তিনটি মৌজার তিস্তা নদী প্রবাহিত হওয়ায় অধিকাংশ জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তিস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে আকৃতি বদল হয়ে শ্রেণী পরিবর্তন হয়েছে ।
তারা আরো বলেন, এই মুহূর্তে রেকর্ড ও জরিপের কাজ করা হলে, সাধারণ জনগণ নিঃস্ব হয়ে যাবে। পাশাপাশি জমির মালিকানা পরিবর্তন হওয়ায় ব্যাপক জটিলতা সহ সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। সর্বোপরি তারা পুনরায় ৩টি মৌজায় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ না করার জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানান, আমার ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝুনাগাছ চাপানি মৌজার জনগণের দাবি,যে এ মৌজার অধিকাংশ জমি বাংলাদেশ সরকারের নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে অন্য তিনটি মৌজার পুনরায় জরিপ করার দরকার নাই। তবে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ বলেন, চারটি মৌজা ছাড়া নতুন করে জরিপের কাজ করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে উল্লিখিত তিনটি মৌজা সহ ৪টি মৌজা পুনরায় জরিপ করার জন্য আবেদন করেছি।
Leave a Reply