
মাসুদ রানা বাচ্চু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দুইটি পা নেই তবুও থেমে নেই । ব্যাটারি চালিত গাড়িতে ৬ শত টাকার পূজি নিয়ে হাতে একটি ডনডনি বাজিয়ে রাস্তা ঘাটে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালায় প্রতিবন্ধী
খোস বার আলী( ৬২)।
২৫ বছর আগে হঠাৎ একটি পায়ে ঘা হয়, সেই ঘা থেকে পচন ধরে। শত চেষ্টায়ও পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা পাননি তিনি। তবুও থেমে নেই তার জীবন। এভাবেই এক পা দিয়ে ঠ্যাংগা কাঁধে ঝুলিয়ে চলছিল টানাপোড়েন সংসার। তার পড় যমুনা নদীর ভাংগনে বিলিন হয় বাড়ি ঘর। পরিবার নিয়ে চলে আসেন শশুর বাড়ি। এই অবস্থায় চলতে থাকে কিছু দিন পর তার আর একটি পায়েও পচন ধরে সেই পা ও কেটে ফেলতে হয়।
দুই টি ছেলে একটি ছেলে মানসিক রোগী, আর একটি ছেলে টাকা পয়সা ধারদেনা করে বউ নিয়ে পারি জমায় ঢাকা। সেই ছেলের ঘরের একটি মেয়ে রেখে গেছে এই অসহায় প্রতিবন্ধীর উপর।
৫ টি টিনের ছাউনির নিচে বসবাস করে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলছে তার জীবন-জীবিকা।জীবন যুদ্ধে হার না মানা খোস বার আলী আমাদের প্রতিনিধি কে জানান তার জীবন যুদ্ধের গল্প।
প্রতিবন্ধী খোশবার আলী বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের বালিঘুগরী গ্রামে ছিল। যমুনা নদীর ভাংগনে বাড়ি ঘর বিলিন হয়ে যায়। এখন আছি শশুর বাড়ি এলাকা চর বালিঘুগরী গ্রামে।
আমার বিয়ের কয়েক বছর পরই এক পায়ে ঘা হয় তার পর সেই ঘা ধীরে ধীরে বেশি হয়ে পচন ধরে পা কাটা পরে। আমার বাবা মৃত মজিবর রহমান ছিলেন একজন অতি দরিদ্র কৃষক। অভাবের কারণে আমার সঠিক চিকিৎসাও করতে পারেনি তখন। তারপর থেকেই শুরু হয় আমার জীবন যুদ্ধ। বর্তমানে আমার দুই ছেলে । বড় ছেলে বিয়ে করে শশুর বাড়ি থাকে। সে ও মানসিক রুগী। ছোট ছেলে বিয়ে করেছে তার ঘরেই এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়েটা আমার কাছে রেখে বউ নিয়ে ঢাকায় গিয়েছে। আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না। ঝালমুড়ি বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে আয় ১০০- ১৫০ টাকা। কোন কোন দিন শরিরের ব্যাথায় বের হতে পারি না। শেষ সম্বল বলতে আমার একটি অটোরিকশা তাও একটা গাড়ি চুরি হয়েছে। পরে আমার প্রতিবেশীরা চাঁদা ধরে এই গাড়িটা বানিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবন্ধীত্ব আমাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের জীবিকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি। সেই থেকে এগিয়ে চলার অদম্য শক্তি নিয়ে এখনও
নিজে গাড়ি চালিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি।
প্রতিবন্ধী খোস বার আলীর স্ত্রী বলেন, ছেলেরা আমাদের খোঁজ নিবে? মনে হয় আমাদেরই খোঁজ নিতে হবে তাদের। আমাদের কত কষ্ট হয় তা আল্লাহ ভালো জানে।মাঝে মাঝেই খবর আসে গাড়ি উল্টে পরে গেছে।
চলাচল এতই কষ্টের যে মানুষ দেখে আপসোস করে অথচ জন্ম দেয়া ছেলেরা একটু খবর ও নেয় না।
প্রতিবেশীরা বলেন, আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ সুস্থ্য থাকার পরও সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে জীবন চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী খোস বার আলী তা করেননি। তিনি পঙ্গুত্বকে হার মানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন।
এর যদি একটু পুঁজি থাকতো তাহলে রাস্তার ধারে একটি দোকান করে বসে চালাতে পারতো।কষ্ট করে ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হতো না।
তাই দেশ বাসির কাছে অনুরোধ এই অসহায় মানুষটি পাশে একটু দাড়ালে বাকি জীবন টা একটু ভালো ভাবে কেটে যেতো।
Leave a Reply