
সবুজ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম রুবেলকে ঘিরে চলমান জিআর-৩৭৪ মামলার জামিন শুনানির তারিখ বারবার নির্ধারণ হওয়াকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে আদালতপাড়ায় বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এবং মামলার অবস্থা, নথিপত্র ও আদালতের ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করে তা পরিবর্তিত হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, নওগাঁ সদর থানার এফআইআর নং-২০, তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫, জিআর নং-৩৭৪, তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫ মামলায় গ্রেপ্তার হন খোরশেদ আলম রুবেল। তিনি চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা থাকলেও সেসব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। তবে জিআর-৩৭৪ মামলায় জামিন না পাওয়ায় এ মামলাতেই তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নিয়ে কয়েকদিন পরপর শুনানির তারিখ নির্ধারণ হওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কিছু সূত্র দাবি করছে, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের সহায়তায় ঘন ঘন তারিখ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি মামলায় কোনো আসামি হাজতে থাকলে তার জামিন আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় আদালত প্রয়োজনবোধে ৭ দিন, ১৫ দিন কিংবা ৩০ দিন পরপর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামিন সংক্রান্ত জরুরি আবেদন হলে আরও স্বল্প সময়ের ব্যবধানেও শুনানি হতে পারে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২ মে উক্ত মামলায় আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে ২১ মে শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও আদালতে মামলার নথির চাপ বেশি থাকায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে বিচারক আগামী ২৪ মে (রবিবার) জামিন শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আইনজীবীদের মতে, শুনানির তারিখ কম বা বেশি হওয়ার পেছনে আদালতের মামলার চাপ, বিচারকের কর্মতালিকা, মামলার পর্যায়, নথিপত্র প্রস্তুতির অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শুধুমাত্র স্বল্প ব্যবধানে তারিখ পড়লেই সেটিকে অনিয়ম বা প্রভাবের ফল বলা আইনগতভাবে যথার্থ নয়।
তবে আদালতপাড়ায় ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে তারা বলছেন, আদালতের রেকর্ড, আদেশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার তথ্যই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বর্তমানে সকলের দৃষ্টি আগামী ২৪ মে নির্ধারিত জামিন শুনানির দিকে, যেখানে আদালত মামলার নথি ও আইনগত যুক্তি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
I need real-time data to make my moves, and the live charts here are incredibly smooth and responsive. No more lagging during peak hours. Love nifty50livechart