
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ জেলা কারাগারে এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দীদের জন্য উন্নত খাবার, নতুন পোশাক, আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত সাক্ষাৎ সুবিধাসহ নানা উদ্যোগ নজর কেড়েছে।

কারা সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে কারাগার প্রাঙ্গণ রঙিন বাতি ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এত ব্যাপকভাবে কারাগার সাজানোর নজির খুব একটা নেই।
নওগাঁ জেলা কারাগারের জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার মো. শাহরিয়ার আলম চৌধুরী জানান, কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি (প্রিজন) এর নির্দেশনায় বন্দীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথাও জানান তাঁরা।
ঈদের নামাজ কারাগারে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম জামাতে কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় জামাতে অংশ নেন বন্দীরা। নামাজে ইমামতি করেন কারাগার মসজিদের নিয়োজিত ইমাম।

বর্তমানে নওগাঁ জেলা কারাগারে মোট ১ হাজার ১০ জন বন্দী রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৪২ জন নারী। ঈদ উপলক্ষে অসচ্ছল বন্দীদের নতুন পোশাক দেওয়া হয়। নারী বন্দীদের জন্য মেকআপ বক্স এবং তাঁদের শিশুদের জন্য নতুন জামাকাপড় উপহার দেওয়া হয়।
খাবারের তালিকাতেও ছিল বৈচিত্র্য। সকালের নাশতায় দেওয়া হয় মুড়ি ও পায়েস। দুপুরে পরিবেশন করা হয় গরু ও খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, সাদা পোলাও, ডিম, মিষ্টি, পানীয় ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে ছিল ভাত, রুই মাছ ভাজি ও আলুর তরকারি।
ঈদের পরদিন বন্দীদের জন্য বিশেষ সাক্ষাৎ সুবিধা রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ের বাইরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক বন্দীকে পাঁচ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। আত্মীয়দের আনা ঘরের খাবারও গ্রহণের সুযোগ ছিল।


দর্শনার্থীদের জন্য কারাগারের পক্ষ থেকে কোমল পানীয়, গোলাপ ফুল ও শিশুদের জন্য চকলেট দেওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দীদের মানসিক স্বস্তি ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য কারাগারে একই ধরনের আয়োজন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
Leave a Reply