
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্ক পেয়েছে তাদের প্রথম মুসলিম মেয়র। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি মঙ্গলবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শহরটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি, যিনি এই পদে নির্বাচিত হলেন।
শুধু তাই নয়, মামদানি ভেঙেছেন এক শতাব্দীরও পুরোনো রেকর্ড ১৮৮৯ সালে নির্বাচিত হিউ জে গ্রান্টের পর তিনি এখন পর্যন্ত শহরটির সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
কুওমো ও স্লিওয়াকে পরাজিত
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে জয়ের ইতিহাস গড়েছেন মামদানি।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলাফলে মামদানি পেয়েছেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ ভোট (৫১%), কুওমো ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ ভোট (৩৯%) এবং স্লিওয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৬ ভোট (৭%)।
বোর্ড অব ইলেকশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল গত পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ট্রাম্পের সমর্থনেও বদলায়নি সমীকরণ
শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে কুওমোকে সমর্থন দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দলের প্রার্থী স্লিওয়াকে উপেক্ষা করে ট্রাম্পের এই অবস্থান ভোটে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে তা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ‘আপনারা কুওমোকে পছন্দ করুন বা না করুন, মামদানিকে থামাতে হলে তাঁকেই ভোট দিতে হবে।’
এর জবাবে মামদানি বলেন, ‘কুওমো হবেন ট্রাম্পের মেয়র, আমি হব নিউইয়র্কের মানুষের মেয়র।’
অভিবাসীদের প্রার্থী
অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া মামদানি বরাবরই নিউইয়র্কের স্বল্প আয়ের ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিনামূল্যে শিশুসেবা, ছোট ব্যবসার সহায়তা ও অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার।
ভোটের দিনে কুইন্সের অ্যাস্টেরিয়া আর্টস হাই স্কুলে স্ত্রী রামা দুয়াজিকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন তিনি। ভোট শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাবওয়ে ট্রেনের দরজা খুলে যাচ্ছে, আর ঘোষিত হচ্ছে— ‘পরবর্তী গন্তব্য সিটি হল।’
নতুন প্রজন্মের আশা
নিউইয়র্কের শিল্পী ম্যাট মার্কেল বলেন, ‘ছোট ব্যবসা ও পরিবারের প্রতি মামদানির প্রতিশ্রুতি আমাদের নতুন আশার সঞ্চার করেছে।’
মামদানি নিজেও এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এ শহর আমার ঘর, এখানকার প্রতিটি মানুষ আমার পরিবার। আমি তাদের জন্য কাজ করতে এসেছি।’
এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বড় নির্বাচন, যা তাঁর দলের জনপ্রিয়তার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সেই প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কের এই ফলাফল নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি এখন শুধু নিউইয়র্ক নয়, বিশ্বের অভিবাসী ও তরুণ রাজনীতিকদের জন্যও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
Leave a Reply