

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন এই বরেণ্য শিল্পী। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। সর্বশেষ বুধবার থেকে ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেন তিনি।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীনের সংগীতজীবন শুরু হয়েছিল মাত্র ১৪ বছর বয়সে। প্রথমে নজরুলসংগীত ও আধুনিক গান দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও তাঁর প্রকৃত পরিচিতি গড়ে ওঠে লালনসংগীতে। “লালনকন্যা” উপাধি অর্জন করে তিনি হয়ে ওঠেন এক অনন্য ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লালনগীতি পরিবেশন করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
লালনসংগীতের প্রচার ও জনপ্রিয়করণের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক পান। ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্র অন্ধ প্রেম–এ ব্যবহৃত গান “নিন্দার কাঁটার” জন্য শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনি অর্জন করেন জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওয়াকা পুরস্কার।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক শোকবার্তায় বলেন, “ফরিদা পারভীন শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্লীন দর্শনের অন্যতম কণ্ঠস্বর। তাঁর গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জীবনবোধ শিখিয়েছে।”
তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, লালনসংগীতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
ফরিদা পারভীন রেখে গেছেন স্বামী ও চার সন্তান। রেখে গেছেন অগণিত ভক্ত-শ্রোতার হৃদয়ে অমলিন স্মৃতি। তাঁর কণ্ঠে লালনের গান যেমন মানুষকে ছুঁয়ে গিয়েছিল, তেমনি তাঁর বিদায়ও সংগীতপ্রেমীদের মনে তৈরি করেছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
Leave a Reply