
নিজস্ব প্রতিবেদক
পেনশন সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তির নামে ঘুষ গ্রহণকালে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
৭ জানুয়ারি (বুধবার) বিকেলে তার কার্যালয় থেকে ঘুষের এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ তাকে আটক করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এক শিক্ষক পরিবারকে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপন অনুসন্ধান চলছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযানে বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড়ের কথা বলে ঘুষ গ্রহণের সময় তাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে নগদ টাকা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাপ্য পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে মাসের পর মাস ঘুরানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হলেও পরে আরও টাকা দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পেনশনের টাকা আটকে রাখা হয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন স্কেলও কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে পরিবারটি চরম মানসিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ে।
একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি দুদকে জানালে কমিশন ফাঁদ পাতে। বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড়ের কথা বলে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় দুদকের টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটক করে।
দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
Leave a Reply