
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর বদলগাছীতে এক বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাকে বাধা দিলে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় পালালেন বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক। এতে ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় এবং বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে বহাল অবস্থায় থাকা প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত মো. শামীম (মিঠু) ও সহকারী শিক্ষিকা রিফাত আর’র আপত্তিকর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ২০২৩ সালের ৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে উপজেলা-জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর নড়েচড়ে বসে। ম্যানেজিং কমিটি দুই শিক্ষককেই সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে উপজেল-জেলা প্রশাসন এবং মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরিত হলে পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত মো. শামীম ওরফে মিঠু কে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে রেজাউল করিমকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। এবিষয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা চলমান। এমতাবস্থায় উক্ত বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক হাইকোর্ট থেকে একটি কাগজ নিয়ে আজ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে প্রায় শতাধিক লোকজনসহ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হন। খবর পেয়ে অভিভাবক, এলাকাবাসী সহ সচেতন মহল ছুটে আসলে উক্ত শিক্ষক (মিঠু) দলবলসহ পালিয়ে যান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করেন
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত মো. শামীম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অন্যায়ভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আমি হাইকোর্টে মামলা করে রায় পেয়েছি, বকেয়া বেতনসহ স্ব-পদে যোগদানের নির্দেশ আছে। সেই রায় ও কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিস ও থানায় জমা দিয়েছি। বিদ্যালয়ে গেলে কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা আমার উপর হামলা চালায়। আমি নিরাপত্তাহীনতাজনিত কারণে স্থান ত্যাগ করেছি।”

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, “হাইকোর্টের যে রায় দেখানো হচ্ছে সেটি ভুয়া হতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ আছে। আজ সে জোর করে প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে গেলে শিক্ষার্থীদের উপর উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেব না। তিনি যেভাবে যোগদানের চেষ্টা করেছেন, সেটি আমরা মেনে নেব না।”
আহত শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের লম্পট, চরিত্রহীন শিক্ষক–শিক্ষিকাকে আমাদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
একাধিক অভিভাবকও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষক হচ্ছে সমাজের আদর্শ ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ সহ্য করা হবে না। ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বদলগাছী থানার ওসি মো. আনিছুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষক কর্তৃক প্রদর্শিত হাইকোর্ট রায় সংক্রান্ত বিষয়ের কাগজপত্র আমি পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনানুগ তদন্ত চলমান; সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে ঢাকায় আছি, চিঠিপত্র এসেছে কিনা তা নিশ্চিত নন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিনা। তবে হাইকোর্টের রায়ের কথা শুনেছি। ট্রেনিং শেষে এসে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণভাবে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি জানিয়েছেন, শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষায় দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং স্কুলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
Leave a Reply