
নিজস্ব প্রতিবেদক,
অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এ বছর নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে মরিচ। তবে আশানুরূপ ফলন হলেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ না ওঠায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। পাইকারি বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ভান্ডারপুর, কোলা ও গোবরচাপা এলাকার মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা মূলত সাদা ও আকাশি জাতের মরিচ চাষ করেছেন। প্রতিদিন সকাল-বিকেল ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবার ও সোমবার বসা স্থানীয় সাপ্তাহিক হাটগুলোতে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন তারা।
হাটে গিয়ে কৃষক ও পাইকারদের দরকষাকষির মধ্য দিয়ে বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
উপজেলার আধাইপুর গ্রামের কৃষক সুনীল চন্দ্র জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১০ কাঠা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরিসহ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করে আয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, “জমি থেকে মরিচ তুলতেই শ্রমিকদের কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা দিতে হয়। হাটে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ২০ টাকা কেজিতে। আবার সপ্তাহে একবার কীটনাশক দিতে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হয়। আয় থেকে ব্যয়ই বেশি হচ্ছে। তারপরও আশা করছি সামনে দাম কিছুটা বাড়বে।”
একই গ্রামের কৃষক সুজন কুমার বলেন, “গত বছর এই সময়ে কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ এবার ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচই পড়ছে প্রায় ৩০ টাকা কেজি। তার ওপর হাটে ৪৩ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ হিসেবে বিক্রি করতে হয়। এতে আমাদের বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। অন্তত ৫০ টাকা কেজি হলে কিছুটা লাভের মুখ দেখা যেত।”
স্থানীয় পাইকাররা জানান, বদলগাছীর হাট থেকে মরিচ কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারদর কিছুটা কমেছে। কৃষকদের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে উৎপাদন পরিকল্পনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply