
বিশেষ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নে ঈদ উপহার হিসেবে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফ চালের ভুয়া কার্ড ব্যবহার করে চাল উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে বিকেলে মিঠাপুর ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের ২ হাজার ১২২টি কার্ড বিতরণ করা হয়। পরদিন ২০ মে সকাল ৯টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ শুরু হলে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চার ব্যক্তি চাল উত্তোলনের জন্য কার্ড জমা দেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য কার্ডগুলো যাচাই করে সন্দেহ প্রকাশ করলে পরে সেগুলো ভুয়া বলে দাবি করা হয়।
এ সময় কান্দা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী, আব্দুর রশিদের ছেলে হাবিবুর রহমান, আলম হোসেনের ছেলে আকাশ হোসেন এবং মালি পাড়া এলাকার দূর্জয়কে ইউনিয়ন পরিষদে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান সনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিজিএফ চালের ১৯টি কার্ড জাল বা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মিঠাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে বদলগাছী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনকে নামীয় আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, কান্দা গ্রামের আকাশ হোসেন, হাবিবুর রহমান ও রমজান আলী, খাদাইল সরদারপাড়া গ্রামের ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা আবু হেনা এবং সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল। অভিযোগ রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছে পাওয়া কার্ডগুলো তাঁদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, চাল উত্তোলনের জন্য যারা ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন, তারা অন্যের দেওয়া কার্ড নিয়েই এসেছিলেন। তাই প্রকৃত জালিয়াতদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তদন্তসাপেক্ষে তার বিচার হওয়া উচিত। আমি কোনো অপরাধীর পক্ষ নিচ্ছি না।”
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এবিষয়ে থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। “মামলা নং-২২, তারিখ ২১/০৫/২০২৬ ইং। এ ঘটনায় তিনজন আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Leave a Reply