
মাজহারুল ইসলাম মিল্টন বিশ্বাস, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বরগুনার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দোসররা বিভিন্ন বাহারি নামের ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি এডিট করে, অসত্য তথ্য দিয়ে ক্লিন ইমেজের লোকজনকে জড়িয়ে নানা ধরনের করছে। এরা বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনৈতিক অসামাজিক কর্মকান্ডের ছবি, ভিডিও, লিংক, স্ক্রীনশট, ভয়েসকলসহ নানান রকমের বিভ্রান্তিকর পোস্ট করছে।এগুলো শুধু রাজনৈতিক দল বা নেতা-কর্মীরাই নয়, এদের লক্ষবস্তুতে রয়েছে খোদ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও। এসব থেকে বাদ যায়নি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মূল ও সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয়রাও। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অসংখ্য ত্যাগী, আদর্শিক নেতারাও বাদ পাড়েননি এসব ফেক আইডির ছোবল থেকে।
ফেক আইডির ব্যবহার বেশি রয়েছে আমতলী ও বামনা উপজেলায়। উল্লেখযোগ্য ফেক আইডি হলো মফস্বল বিএনপি মিডিয়া সেল, আমতলীর কন্ঠস্বর, আমিই আমতলী, আমতলীর ইতিহাস সহ অসংখ্য আইডি।ফেক আইডি সম্পর্কে অনেকে আবার বলছেন অনেক লোভিদের আকাম-কূকামের তথ্য দিয়ে আসল মূখোশ খুলেছে। ভুক্তোভোগীদের পক্ষথেকে একাধিক ফেক আইডির বিরুদ্ধে হয়েছে থানায় সাধারণ ডায়েরি। মাঠে সক্রিয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক বাহিনী।
সামাজিক যোগযোগের বিভিন্ন মাধ্যমের ভিত্তিতে এলাকার সাধারণ জনগনের আড্ডায় আলোচনার চায়ের উষ্ণতায় এখন বিষয় একটাই- পরবর্তী টার্গেট কে? এসব কারনে অসংখ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুলছে নতুন নতুন আইডি।
স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি বলছেন গত ৫ আগষ্ট পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিষ্টদের লুটেরা, দখলবাজ, টেন্ডারবাজ, ক্ষমতার দাপটে নেতা-কর্মীরা প্রায় সকলেই আবার অনেকে বিভিন্ন মামলায় আসামী হয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফেক আইডি দিয়ে পোষ্ট করে চাপে রাখার যেমন পায়তারা চলছে, ঠিক তেমনি বিগত ১৭ বছরের কোনঠাসা নির্যাতিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা বিগত সময়ে শাসক দলের নির্যাতন, হামলা, মামলা উপেক্ষা করে রাজপথে রক্তের বিনিময়ে দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নকারী ত্যাগী কর্মীরা যখন দলীয় নীতি-আদর্শের কঠোর মাপকাঠিতে এখন দলে পদ-পদবীর মূল্যয়নের কাছাকাছি ঠিক তখন দলের মধ্যে কিছু লোভী সাইরেরিয়ান রাজহংস, এরা লিয়াজোঁ করে দলের গুরুত্বপূণ পদ দখলকারী পলিটিকালি ডিজিটাল বণিক হতে ত্যাগীদের ক্ষুত বা সমস্যা বের করে রাজনৈতিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অনেক ফাঁদ থাকতে পারে এই ফেক আইডির মধ্যে। আবার বিগত ফ্যাসিস্টদের মধ্যে থেকেও হতে পারে এসব ফেক আইডি। তবে তারা আরও বলেন নিজেদের মধ্যে এমন কাদা ছোঁড়া-ছুড়ি কল্যাণকর নয়।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান মজনু বলেন, আমি এর ভুক্তভোগী। এরা টাকার বিনিময়ে অন্যকে দিয়ে এসব ফেক আইডি পরিচালনা করে। এসব ফেক আইডির চটকদার এক হাজার, দুই হাজার টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতাদের ছবি এডিট করে মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে বামনা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ রানা বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীরা ১৭ টি বছর আমরা যারা নির্যাতন, হামলা, মামলা, রক্ত ঝরিয়েছে তারা দলের আদর্শ। মান-অভিমান এটা সংগঠনের অংশ তাই বলে দলের একজন অন্যজনকে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশাল প্লাট ফর্মে ফেক আইডির আশ্রয় নেয় এটা আমাদেরকে চরম ব্যথিত করেছে। এসব করে দলে ত্যাগীদের আত্মত্যাগের অবমূল্যায়ন করা অনেকটা অলিক স্বপ্ন। এদেরকে দল ক্ষমা করবেনা। এদের বিষয়ে প্রয়োজনে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি সকলকে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীত ও দলীয় মূল আদর্শিক সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে থানায় ডায়েরি করা হয়েছে। এ ফেক আইডির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সক্রিয় কার্যক্রম অব্যাহত আছে। খুব দ্রুত সময়ে তাদের আটক করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply