
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নওগাঁর মহাদেবপুরে মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জেরে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার মহাদেবপুর থানায় মামলাটি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী হাসিনা বানুর পরিবারের অভিযোগ, জমি দখল, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার মহাদেবপুরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এর পরদিন শুক্রবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসিনা বানুকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাঁকে উদ্ধারে গেলে তাঁর স্বামী বাবর আলীকেও বেধরক মারধর করে বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাসিনা বানু ও তাঁর স্বামী বাবর আলীকে যখম অবস্থায় উদ্ধার করে মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসিনা বানু অভিযোগ করেন, মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তাঁর ওপর এই অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর জন্য আমার শরীরে মাদকদ্রব্য বেঁধে দিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আব্দুল মতিনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেন।
মহাদেবপুর থানার উপপরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে আঘাতের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তোলা হলেও প্রাথমিক তল্লাশিতে তার সত্যতা মেলেনি বলে জানান তিনি।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডল। মুঠোফোনে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি
Leave a Reply