
মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে মাদরাসাছাত্রী দীপ্তি ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ইজিবাইকচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন খানকে (৫০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ এ এম রেজা জাকের এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন সদর উপজেলার পূর্ব খাগদী এলাকার সিরাজুল ইসলাম খানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শরীফ সাইফুল কবীর বলেন, “দীর্ঘ ছয় বছর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত নৃশংস একটি হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ছিল। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই মাদারীপুর শহরের পূর্ব খাগদী এলাকার একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের বাবা মজিবর ফকির মরদেহটি তাঁর মেয়ে দীপ্তির বলে শনাক্ত করেন এবং মাদারীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে নামে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৮। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ইজিবাইকচালক সাজ্জাদ হোসেন কিশোরী দীপ্তিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, সাজ্জাদ পূর্বে শিশু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি মুক্তি পান।
২০১৯ সালের ১১ জুলাই বৃষ্টির দিনে দীপ্তি চরমুগরিয়া যাওয়ার জন্য সাজ্জাদের ইজিবাইকে ওঠেন। অন্য কোনো যাত্রী না থাকায় সাজ্জাদ জোর করে দীপ্তিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণ শেষে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বিদ্যুতের তার দিয়ে বেঁধে ইটসহ পুকুরে ফেলে দেন।
১৩ জুলাই মরদেহটি পুকুরে ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত দীপ্তির বাবা মজিবর ফকির বলেন, “আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসির রায় হয়েছে। আমরা এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছি।”
Leave a Reply