পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকে বলছেন, নির্বাচনে কে জয়ী হচ্ছেন, তা জানতে কয়েক দিনও লাগতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকে বলছেন, নির্বাচনে কে জয়ী হচ্ছেন, তা জানতে কয়েক দিনও লাগতে পারে।
এবারের নির্বাচন শুধু বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার লড়াই নয়। ভোটের মধ্য দিয়ে আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন ভোটাররা।
এবার দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনা ও নেভাডাসহ ১০টি অঙ্গরাজ্যের ব্যালটে গর্ভপাতের অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ থাকছে। মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৪টিতে নির্বাচনের লড়াই চলেছে, যেখানে রিপাবলিকানদের চেয়ে একটি আসন বেশি আছে ডেমোক্র্যাটদের। অন্যদিকে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সব কটির নির্বাচন চলেছে।
এদিকে ফ্লোরিডা, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে বিনোদন বা চিকিৎসার জন্য গাঁজার ব্যবহারের কথা ব্যালটে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু এলাকায় ভোটদান ও নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক করা নিয়ে গণভোটের উল্লেখ রয়েছে ব্যালটে।
এদিকে স্থানীয় সময় গত সোমবার মধ্যরাতে শেষবারের মতো প্রচার চালিয়েছেন কমলা ও ট্রাম্প। পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় প্রচারণা চালানোর সময় কমলা বলেন, ‘পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে রয়েছে।’ তবে কমলা সতর্ক করে বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে। তাই প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ।’ এ সময় সংগীতশিল্পী লেডি গাগা ও উপস্থাপিকা অপরাহ উইনফ্রের মতো তারকারা কমলার সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেন।
এদিকে সমাপনী বক্তব্যে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের ভোট পেলে আমরা দেশের প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে পারব এবং যুক্তরাষ্ট্রকে গৌরবের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব।’
ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হলে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোনো ব্যক্তি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ইন্ধন দেবে। বিশেষ করে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র ও ন্যাটোর শঙ্কা বাড়বে। এ ছাড়া আমদানি পণ্যে তাঁর উচ্চ করারোপের ঘোষণার কারণে ব্যাবসায়িক অংশীদাররাও শঙ্কায় থাকবেন।
তবে কমলা জিতলে প্রথমবারের মতো নারী ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট পাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, কারণ এরই মধ্যে ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
পুরো বিশ্বের উদ্বিগ্ন নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। কারণ নির্বাচনের ফলাফল ঠিক করে দেবে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ভবিষ্যৎ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি
Leave a Reply