
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার হাঁসখালির গাজনা উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। মুসলিম যুবককে বিয়ে করায় প্রাপ্তবয়স্ক এক কলেজছাত্রীকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও ‘মৃত’ ঘোষণা করে তার পরিবারের সদস্যরা আয়োজন করেন শ্রাদ্ধশান্তির অনুষ্ঠান।
পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটি তাদের অমতে গভীর রাতে পালিয়ে গিয়ে বিবাহিত মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছে। এর আগেও একবার একই ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি, তখন ক্ষমা করে ঘরে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু পুনরায় একই ঘটনা ঘটায় এবার সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
পুরোহিত ডেকে পূর্ণাঙ্গ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। ছবি-মাল্যদান, পিতলের পাত্রে ভোগ নিবেদনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয় যেন সে আর বেঁচে নেই।
মেয়েটির কাকা জানান, “সে আমাদের বিশ্বাস ভেঙেছে, আজ থেকে তার সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ।” কাকিমা বলেন, “আমরা বাধ্য হয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সে আমাদের মানসম্মানে আঘাত করেছে।”
মেয়েটির বাবা বর্তমানে ইজরায়েলে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে, তাকে এই ঘটনার কথা জানানো হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র বিতর্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা একে সামাজিক সহিষ্ণুতার অভাব এবং সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ভয়াবহ প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই বলছেন, “ভালোবাসা ও বিয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা মেনে নেওয়ার সময় এখন।”
Leave a Reply