
নিউজ ডেস্ক,
যুক্তরাজ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক সফর ঘিরে একাধিক বিতর্ক ও বিভ্রান্তি জন্ম নিয়েছে। সফরের পূর্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক হবে। তবে সফরের সময়সূচি থেকে সেই বৈঠক বাদ পড়ে, আর শেষমেশ ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্টারমার এ বৈঠকে সম্মতি দেননি।
এই ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠেছে-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি আদৌ যথাযথ কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করেছিল? নাকি অনুমান ও ইমেজের উপর ভর করেই পূর্বঘোষণা দেওয়া হয়েছিল?
বিতর্ক আরও জোরালো হয় যখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তখন কানাডায় অবস্থান করছিলেন। অথচ একই সময় লন্ডনের বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্টারমারের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল। পরে প্রেস সচিব এ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
আরও জটিলতা তৈরি করেছে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের চিঠি। তিনি লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা এবং স্টারমারের ঘনিষ্ঠজন। ড. ইউনূসের কাছে লেখা তাঁর চিঠি প্রসঙ্গে প্রেস সচিবের ভিন্নমুখী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও প্রশ্নবোধকতা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো ঘটনাটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার একটি বড় উদাহরণ। অনেকেই মনে করেন, ড. ইউনূসের সফর ইমেজনির্ভর হলেও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রস্তুতি ও সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল।
কূটনৈতিক মহলের মতে, শুধু একটি বৈঠক না হওয়ার বিষয় নয়-এই ঘটনা বাংলাদেশের সার্বিক কূটনৈতিক কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীলতা ও কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
Leave a Reply