
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
চাঁদা না দেওয়ায় নওগাঁর রাণীনগরে একটি মিষ্টির দোকান-কাম- হোটেলে আ’লীগ নেতা ও তার ছেলে সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে। এমন তান্ডবে ওই দোকানে থাকা এক লাখ টাকা মূল্যের প্রায় আট মণ মিষ্টি নষ্ট হয়েছে। এছাড়া দোকানের ক্যাশ থেকে দুই লাখ বিশ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে তোফাজ্জল হোসেনের মিষ্টির দোকান-কাম-হোটেলে এমন হামলা চালিয়েছে কাশিমপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি, ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মান্নান মুহুরী ও তার ছেলে উজ্জল। এমন সন্ত্রাসী তান্ডবের সঠিক বিচারের আশায় তোফাজ্জল হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার ওসি হাফিজ মো: রায়হান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অভিযোগকারী ও দোকানের মালিক চকাদিন গ্রামের মৃত-আজিম উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন জানান এর আগেও মান্নান মুহুরীর ছেলে উজ্জল (৩০) টাকা না দিয়েই প্রায় ১০কেজি মিষ্টি নিয়ে গেছে। এরপর আবার বৃহস্পতিবার সকালে এসে উজ্জল কোন কারণ ছাড়াই দুই হাজার টাকা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অকথ্য ভাষায় কথা বলতে থাকে। খবরটি জানতে পেরে মান্নান মুহুরী এসে দোকানে প্রবেশ করে। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মুহুরী বিএনপি দলকে গালি দিয়ে তার উপর হামলা চালায়। বাবার সঙ্গে ছেলেও তাকে মারপিট করে। এসময় দোকানে থাকা প্রায় ৮মণ মিষ্টি নষ্ট হয়েছে, ক্যাশ থেকে লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের অন্যান্য আসবাবপত্রও নষ্ট হয়েছে। এমন ঘটনায় ঈদ মৌসুমে তার দোকানের ব্যবসার চরম ক্ষতি হয়েছে। দিনে-দুপুরে একটি দোকানে প্রবেশ করে দোকানীকে মারপিট করা, টাকা চুরি করা ও অন্যান্য ক্ষতি সাধন করার সাহস একজন আ’লীগের নেতা কিভাবে পায়? বিগত আ’লীগ সরকারের সময় মান্নান মুহুরী, তার ছেলে ও তাদের বাহিনী ত্রিমোহনী বাজারের দোকানীদের কাছ থেকে ইচ্ছে মাফিক চাঁদা আদায় করাসহ সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে। এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায় করাসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি দাবী জানান তোফাজ্জল হোসেন।
কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর সরদারপাড়ার মৃত-মোহাম্মদ আলী সরদারের ছেলে অভিযুক্ত মান্নান মুহুরী মুঠোফোনে জানান তোফাজ্জল তার আত্মীয় হোন। তার ছেলে উজ্জল তোফাজ্জলের কাছ থেকে টাকা পাবে। সেই পাওনা টাকা চাইতে গেলে তোফাজ্জল অকথ্য ভাষায় কথা বলে। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে দোকানে গিয়ে তোফাজ্জলের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এক সময় তোফাজ্জল হাতে রড নিয়ে তাকে মারতে চায়। তখনই তিনি তোফাজ্জলকে হালকা-পাতলা প্রহার করেন। তবে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিটমাট করার চেস্টা চলছে বলেও জানান মান্নান মুহুরী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলেন একজনের কাছ থেকে আরেকজন টাকা পেতেই পারে। সেই টাকা আদায়ের নানা বৈধ উপায় আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রকাশ্যে দিবালোকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীদের মতো তান্ডব চালিয়ে একজন দোকানীকে মারপিট করবে, দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট করবে এমন সন্ত্রাসী তান্ডব মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এমন জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি দাবী করছি। যদি দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আমরা ত্রিমোহনী বাজারের সকল দোকানীরা রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হবো।
থানার ওসি হাফিজ মো: রায়হান মুঠোফোনে জানান অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুতই বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply