
বিপুল ইসলাম আকাশ,সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ কুয়াশার আবরণে ঢাকা পড়েছে। উত্তরের ঝিরঝির হিমেল হাওয়ায় শীতের প্রকোপ বাড়িয়ে দিয়েছে। সূর্যের দেখা মিলছে না গত ৩ দিন থেকে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। হিমেল হাওয়া আর ঘনকুয়াশায় জবুথবু জনজীবন। বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এর আগে ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত দুই দিনের মতো কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে শীত প্রবল উত্তরের এ উপজেলা। কনকনে শীত ও শীতল হাওয়া বয়ে যাওয়ার কারণে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বাতাসের সাথে শীতের কণা গায়ে সূচের মতো বিঁধছে। মাঘ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এমন শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শীতের প্রকোপে মাঠে কাজ করতে পারছে না খেটে খাওয়া দিনমজুর, নিম্নআয়ের মানুষ ও কৃষকরা। ঘন কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীতে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলাতেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিরমত ঘন কুয়াশা পড়ছে। ঝিরঝিরি বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। এদিকে তীব্র ঠান্ডায় জমিতে কাজ করতে পারছে না কৃষকরা। অব্যাহত ঘন কুয়াশা ও রোদ না থাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ক্ষেতের রবি শস্য।
এদিকে বুধবার দিনভর কুয়াশার আবরণে ঢাকা থাকায় দেখা যায়নি সূর্যের মুখ। উত্তরের হিমেল বাতাসে কনকনে শীতে কেঁপেছে জনপদের মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নিম্নবিত্ত, হতদরিদ্র ও অসহায় শ্রেণির মানুষ। শীতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হাট-বাজার ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষদের ভিড় দেখা গেছে। এই সুযোগে ফুটপাতের দোকানীরা বেশি লাভে বিক্রি করছে শীতের কাপড়। ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক পড়ছে। অনেকে টাকার অভাবে শীতের কাপড় কিনতে পারছেন না। রিকশা, ভ্যানচালকসহ শ্রমিকরা দেদারছে ফুটপাতের কাপড় কিনে নিজেদের উষ্ণ রাখার চেষ্টা করছেন। পুরাতন কাপড়ের চাহিদা বাড়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছেন ফুটপাতের দোকানীরা। বেচাকেনা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধির কারণে বেশ স্বস্তিতে আছেন তারা। ফুটপাতের এসব দোকানে নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা হলেও সস্তায় কিনছেন পুরোনো কাপড়। পুরাতন কাপড়ের মধ্যে সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, গরম টুপি, ছোট ও বড়দের ব্লেজার, বিভিন্ন ডিজাইনের মাফলার বিক্রি করতে দেখা গেছে। পুরাতন জ্যাকেট ১০০-২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন মোটা গেঞ্জি, সোয়েটার ও চাদর পাওয়া যায় ১০০-৩৫০ টাকার মধ্যেই। অতিদরিদ্ররা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে।
দফায় দফায় শীতের কারণে বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির আক্রমণ। প্রতিদিনই শীতজনিত কারণে উপজেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগিরা। হাসপাতালে চিকিৎসক কম থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানান, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া এক হাজার কম্বল এখনো বিতরণ করা হয়নি।
Leave a Reply